মঞ্চে ‘শিকল ভাঙার গল্প’। আর মনে শিকল ভেঙে ফেলার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অনুভূতি! বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার মহাজাতি সদনের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিই যেন বলে দিচ্ছে, এ শহরে তিনি নিরাপদ, এ শহরে আবার তিনি খুঁজে পেয়েছেন আপনার ঘর আর আনন্দের উৎস। এদিন মহাজাতি সদনের মঞ্চে ‘শিকল ভাঙার গল্প’ নিয়ে আসেন তসলিমা। তাঁর কবিতা আর বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মৈত্রী পাহাড়ির নাচ দারুণ উপভোগ করলেন শহরবাসী। অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী তাপস রায় ও অগ্নিমিত্রা পাল, বিধায়ক রত্না দেবনাথ, প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা বিশিষ্ট জাদুকর পিসি সরকার জুনিয়র। দারুণ আনন্দে কাটল আজকের সন্ধ্যাটা।

আরও পড়ুন:
বুধবার দুপুরে কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় এসেছেন তসলিমা নাসরিন। এখানে তাঁর দুটি অনুষ্ঠান। একটি হয়ে গেল আজ, বৃহস্পতিবার, মহাজাতি সদনে। এই অনুষ্ঠানের আগে এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তসলিমা বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভারতে তিনি কতটা ভালো আছেন, তাও উল্লেখ করেন। লেখিকার কথায়, ‘‘ভারতের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আমি নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারি। বাংলাদেশে আমি আর ফিরতে পারব না, সেটা মেনে নিয়েছি। আমি কেন, আমার মৃত্যুর পর ওরা আমার লাশও হয়ত ফেরাতে দেবে না। কারণ, বাংলাদেশের সব সরকারই জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেয়।”

এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আয়োজনে এদিনের অনুষ্ঠানে ‘উমা’ সম্মান প্রদান করা হয় তিনজনকে। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পিসি সরকার জুনিয়র ও সদ্যপ্রয়াত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বিভা সেনগুপ্তকে। তবে মধ্যমণি ছিলেন তসলিমা। লাল-সাদা বেনারসিতে তাঁর রূপই যেন মঞ্চের আলোস্বরূপ। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আপ্লুত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, রত্না দেবনাথরা। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত তসলিমার এ শহরে থাকার কথা। পুজোয় তিনি থাকছেন না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
