সিটং এর হোমস্টে বার্বিকিউ কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। এবার পাহাড়ের প্রতিটি হোমস্টে এর বিস্তারিত তথ্য চাইলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এবিষয়ে তিনি দার্জিলিং ও কালিম্পং এর জেলাশাসক সহ পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত এবিষয়ে তথ্য জমা দিতে। বুধবার এবিষয়ে শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউসে বৈঠক করেন পর্যটনমন্ত্রী। জিটিএ ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল নামা, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং এলাকার প্রশাসনিক আধিকারিক, কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক সনম লামা কালিম্পংয়ের জেলাশাসক সহ জিটিএ এর প্রশাসক।
পর্যটকদের পরিচয়পত্র ছাড়াই কিছু হোমস্টেতে থাকার ব্যবস্থা করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পুলিশ প্রশাসনকে কতগুলি হোমস্টে রেজিস্টার্ড এবং কতগুলি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন। প্রশাসনের নজরে এসেছে, উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় অধিকাংশ হোমস্টে নথিভুক্ত হলেও দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো এলাকায় এখনও বহু হোমস্টে রেজিস্ট্রেশনের বাইরে রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের পরিচয়পত্র ছাড়াই কিছু হোমস্টেতে থাকার ব্যবস্থা করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পুলিশ প্রশাসনকে কতগুলি হোমস্টে রেজিস্টার্ড এবং কতগুলি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হোমস্টে ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করতে এবার বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে পর্যটন দপ্তর। নতুন ব্যবস্থায় হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন, রিনিউয়াল এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা নতুন হোমস্টে তৈরি করতে চান, তারাও সরকারের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন। এতদিন যে প্রক্রিয়ার বড় অংশ খাতায়-কলমে সম্পন্ন হত, তা এবার ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এ সংক্রান্ত নতুন নীতি আনার প্রস্তুতি চলছে।
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “দার্জিলিংয়ের যানজট কমাতে রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া হোমস্টে পলিসি নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিশেষ আলোচনা হয়েছে। পর্যটন শিল্পকে আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলিকেও নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, দুধিয়া, মংপু, কার্শিয়াং-সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আগামী দিনে টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র্যালি, ওয়াকাথন, রিভার ক্রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং-সহ একাধিক ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন বৈঠক শেষে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “দার্জিলিং এর তিনটি মূল সমস্যা রয়েছে যানজট, জঞ্জাল ও পানীয় জল। দার্জিলিংয়ের যানজট কমাতে রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া হোমস্টে পলিসি নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিশেষ আলোচনা হয়েছে। পর্যটন শিল্পকে আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলিকেও নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এদিকে দীর্ঘ সময় পর পর্যটন খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ৫৭ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। তা দিয়েও পর্যটনের উন্নয়ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
