ফ্লাইদুবাই মনে করাচ্ছে কান্দাহার বিমান অপহরণ, মিউনিখ গণহত্যার মতো ঘটনাকে

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হানা’ বলে অভিহিত করেছে ইজরায়েল। ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিতেই ককপিটের ভিতর পাইলটের উপর আচমকা হামলা চালায় সহ-পাইলট। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে বিশ্ব। স্মৃতিতে ফিরে ফিরে আসছে কান্দাহার বিমান অপহরণ, মিউনিখ গণহত্যার মতো ঘটনা।

‘মিউনিখ ম্যাসাকার’- ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক। ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ নামের এক প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর আটজন সদস্য মিলে সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে আগে ঢুকে পড়ে অলিম্পিক ভিলেজে। তাদের হাতে কালাশনিকভ। সঙ্গে ছিল গ্রেনেডও। আর লক্ষ্য ছিল ইজরায়েলি অ্যাথলিটরা। একজন ওয়েটলিফটার ও একজন কুস্তি কোচকে ঘটনাস্থলেই খুন করে জঙ্গিরা। অপহরণ করে নেয় ৯ জনকে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ছিলেন কোচরাও। সকলকে পণবন্দি রেখে জঙ্গিরা দাবি করে ইজরায়েলের হাতে বন্দি ২৩৪ জন পণবন্দিকে ছাড়লে তবেই মুক্তি দেওয়া হবে অপহৃতদের। গোটা বিশ্ব শিউরে উঠেছিল এই ঘটনায়। শেষপর্যন্ত বন্দিদের উদ্ধারে গুলির লড়াই শুরু করে জার্মানি (তখন পশ্চিম জার্মানি) পুলিশ। শেষপর্যন্ত আটজন জঙ্গির মধ্যে পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাকি ৯ পণবন্দি ও এক জার্মান পুলিশ অফিসারের মৃত্যু আটকানো যায়নি।

আরও পড়ুন:

Munich massacre | Facts, Victims, Terrorism, Olympics, & History |  Britannica

কান্দাহার বিমান অপহরণ- ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের IC-814 ফ্লাইট নেপালের কাঠমান্ডু থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিল। কিন্তু আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়। বিমানে ১৯০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। প্রথমে অমৃতসর, পরে লাহোর এবং দুবাই হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানটি। এই ঘটনায় কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্ব শিউরে উঠেছিল। ১৭৬ জন যাত্রীর প্রাণের বিনিময়ে তৎকালীন ভারত সরকার সন্ত্রাসী মাসুদ আজহারসহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ দিন ধরে চলা চরম উৎকণ্ঠা আজও এক দুর্বিষহ দুঃস্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে।

অপারেশন থান্ডারবোল্ট- ১৯৭৬ সালের ৪ জুলাই। উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে ইজরায়েলি কমান্ডোদের দুরন্ত অভিযানে জঙ্গিদের হাত থেকে উদ্ধার পায় পণবন্দিরা। সেই অভিযানে ইজরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহু নিহত হন। তিনি ছিলেন উদ্ধারকারী দলের প্রধান লেফটেন্যান্ট। ২৭ জুন প্যালেস্তিনীয় ও জার্মানির জঙ্গিরা এয়ার ফ্রান্সের এক বিমান হাইজ্যাক করে। উগান্ডায় নিয়ে যাওয়া হয় বিমানটি। ১০২ জন ইজরায়েলি নাগরিক ছিলেন পণবন্দি। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দুরে ইজরায়েল। সেখানে থেকেই ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করে। এরপর ৫০ মিনিটের এক ঝটিকা অভিযানে ১০২ জন পণবন্দিকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সব হাইজ্যাকারকে নিকেশ করা সম্ভব হয়। ইজরায়েলি সেনার মধ্যে একমাত্র শহিদ নেতানিয়াহুর ভাই। এত বছর পরও এই অভিযানের কাহিনি বিস্মিত করে বিশ্বকে।

প্যান অ্যাম ফ্লাইট ৭৩- ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘নীরজা’ ছবিটি দর্শকদের মন জিতেছিল। সেই ছবিতে ফ্লাইট পার্সার নীরজা ভানোটের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অনিল কাপুরের মেয়ে সোনম কাপুর। আদপে তা সিনেমা হলেও আসলে এক বাস্তব ঘটনার উপরই সেটি নির্মিত হয়। ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুম্বই ভায়া ফ্রাঙ্কফুর্ট নিউইয়র্কগামী এক বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছিল। সেই প্যান অ্যাম ফ্লাইট ৭৩-তে ৩৭৯ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। করাচিতে যাত্রাপথের বিরতি নেওয়ার সময়ই সেখানে চড়াও হয় অপহরণকারীরা। কিন্তু নীরজা অসমসাহস ও বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ককপিটের পাইলট ও ক্রুদের সতর্ক করেন। তারা বিমান থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলেই জঙ্গিরা ওই বিমানকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। শেষপর্যন্ত যাত্রীদের উদ্ধার করতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন নীরজা। এই অসীম সাহসিকতার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব পুরস্কার ‘অশোক চক্র’ প্রদান করা হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *