বনদপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা অজিত মাহাত। সেই তদন্তে উঠে এল প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার নাম। অভিযোগ, বিরবাহার মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অজিত। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে পুলিশি হেফাজতে থাকা অজিতকে সঙ্গে নিয়ে ঘোড়াধরার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ব্যাঙ্কের পাসবই, দু’টি গাড়ির নথি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অজিতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে সরাসরি বীরবাহার নাম নেই। তবে তদন্তের সূত্রে তাঁর নাম উঠে এসেছে। বনমন্ত্রী থাকাকালীন বীরবাহার বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠদের বনদপ্তরের চাকরি পাইয়ে দেওয়া ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজের সমীক্ষার বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি-সহ বিভিন্ন মহল থেকেও এমন অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমান প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে ওই অভিযোগগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অজিতকে এ বিষয়ে জেরা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার রাতে তল্লাশিতে ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মধ্যে খোলা পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই উদ্ধার হয়। অন্যের নামে থাকা দু’টি গাড়ির নথিও মিলেছে। সোমবার ব্যাঙ্ক থেকে অ্যাকাউন্টগুলির স্টেটমেন্ট নিয়ে লেনদেন খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। বাছুরডোবার বাসিন্দা সজল দাস ও তাঁর বাবা লক্ষ্মীকান্ত দাস ২৯ অক্টোবর থানায় অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে চার দফায় সজল মোট ১০ লক্ষ টাকা দেন। বনদপ্তরের স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অজিত। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়া হয় এবং আরও দু’লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একই ভাবে টাকা নেওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অজিত গত বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার আদালত আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। আরও যদি অভিযোগ আসে, সেই অনুযায়ী তদন্তের গতিপ্রকৃতি ঠিক হবে।” প্রাক্তন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
