ঢাকায় কমছে স্কুলের সংখ্যা। সেখানকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বড় অংশই মাদ্রাসা। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ জুড়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঢাকার মহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আহসানল কবির বলেন, “কাছাকাছি কোনও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। আশপাশে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলির বেশির ভাগই কিন্ডারগার্ডেন বা মাদ্রাসা। এছাড়া একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ও আছে।”
শিক্ষাবিদরা বলছেন, “ঢাকায় জনসংখ্যা প্রচুর। কিন্তু তার নিরিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপ্রতুল।বেসরকারি স্কুলগুলিতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, “ঢাকা-সহ সারা দেশেই মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি। ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষায় নিম্নবিত্তদের সামর্থ্যের মধ্যে যেমন প্রতিষ্ঠান আছে আবার বিত্তবানদের জন্যও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দরিদ্র পরিবারগুলি মাদ্রাসা বেছে নিচ্ছেন। উচ্চবিত্তরা বেছে নিচ্ছেন ইংরেজি মাধ্যম বা কিন্ডারগার্ডেন মাদ্রাসা।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে অভিভাবকদের অনেকেই এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইছেন, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষা দু’টোই মিলবে।”
আরও পড়ুন:
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় মোট প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭১, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু তাদের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে মাত্র ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৫ জন। বাকি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থীকে নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর। অর্থাৎ, ঢাকায় প্রাথমিক স্তরের ৮২.৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই পড়ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
শিক্ষার্থী সংখ্যায় শীর্ষে থাকলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যায় তুলনামূলক পিছিয়ে ঢাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকায় মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ২৯৯, অর্থাৎ মোট প্রতিষ্ঠানের ৮১.৮৯ শতাংশই বেসরকারি। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ৯৫১টি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডঃ মনজুর আহমদ। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ঘাটতি রয়েছে। ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম – এটি যেমন একটি সমস্যা, তেমনি বিদ্যমান অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখানে পড়াতে আগ্রহী হন না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
