মহিলাদের ক্ষেত্রে স্যানিটারি ন্যাপকিন অত্যন্ত জরুরি জিনিস। অথচ প্রত্যন্ত এলাকায় এই ন্যাপকিন নিয়ে এখনও ছুঁতমার্গ রয়ে গিয়েছে। তবে তার মধ্যেও সাড়া ফেলে দিয়েছে একটি ভিডিও! যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি এটিএম মেশিন থেকে টাকা নয়, বেরোচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। সমাজমাধ্যমে এই ভাইরাল ভিডিও প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষের বেশি মানুষ দেখেছেন। বহু মানুষ প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন। কেউ আবার জানতে চেয়েছেন এটা আসলে কী? কোথায় আছে? রাজ্যে এই প্রথম স্যানিটারি প্যাড এটিএম তৈরি করে নজির গড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না।
শুভদীপরা জানান, ২০১৩ সাল থেকে এলাকায় সামাজিক কাজের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি এবং গ্রামের বিভিন্ন মহিলা ও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন আধুনিক যুগেও মহিলারা ও ছাত্রীরা ঋতুকালীন সময়ে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাঁরা অতটা সচেতন নয়।
আরও পড়ুন:
পূর্ব মেদিনীপুরের রামচক গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দোনাচকে তৈরি হয়েছে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিষেবা কেন্দ্র বা প্যাড এটিএম। অভিনব এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনা ও ভাবনা গ্রামেরই কয়েকজন যুবকের। এটি বাস্তবায়িত করা হয়েছে ময়নার দোনাচক স্বামী বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে। মূল উদ্যোক্তা সংস্থার সম্পাদক শুভদীপ ভৌমিকের সঙ্গে এই কাজে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বভাবতই খোলা জায়গায় প্রত্যন্ত গ্রামে রাস্তার ধারে নতুন কেউ এরকম এটিএম দেখেই অনেকেই হকচকিয়ে যাচ্ছেন এবং অনেকে আবার দাঁড়িয়ে দেখছেন।

কিন্তু স্যানিটারি প্যাড এটিএম কাউন্টার তৈরির ভাবনা কোথা থেকে এল, এমন প্রশ্নে শুভদীপরা জানান, ২০১৩ সাল থেকে এলাকায় সামাজিক কাজের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি এবং গ্রামের বিভিন্ন মহিলা ও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন আধুনিক যুগেও মহিলারা ও ছাত্রীরা ঋতুকালীন সময়ে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাঁরা অতটা সচেতন নয়। ঋতুকালীন সময়ে কী করা উচিৎ ও কী করা উচিৎ নয়, সে সম্পর্কেও তাঁরা খুব একটা ওয়াকিবহাল নয়। এমনকী গ্রামের অনেক মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারও করেন না। লজ্জা থেকেই অনেকে বাড়িতেও বলতে পারেন না দোকান থেকে ন্যাপকিন এনে দেওয়ার কথা। অপরিষ্কার ও অসচেতন থাকার ফলেই মহিলারা জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন প্রায়শই। এই সব দেখেই শুভদীপদের সচেতনতার কাজ শুরু।
২০১৭ সাল থেকে এই সংস্থার যুবকেরা নিজেদের এলাকার দোকানগুলোতে সার্ভে শুরু করেন এবং জানতে থাকেন স্যানিটারি ন্যাপকিন যখন কেউ কিনতে আসেন, কেন কালো পেপারে মুড়ে দেওয়া হয়? মহিলারা নাকি তাঁদের বাড়ির অন্য কেউ স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে আসেন দোকানে? এইভাবেই তাঁরা প্রতি দোকানে সার্ভে শুরু করার পাশাপাশি নিজেদের গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি যান। গিয়ে জানতে চান মহিলারা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন কি না। তারপর বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ ও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সচেতনতা এবং ব্যবহৃত ন্যাপকিন যত্রতত্র না ফেলা নিয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচার শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ও আশাকর্মীদের নিয়েই বিভিন্ন গ্রামে মহিলা ও ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং বিনামূল্যে ন্যাপকিন বিতরণ সচেতনতা শিবির শুরু হয়। এখান থেকেই ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগোতে শুরু করেন শুভদীপরা। এবার এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ধীরে ধীরে ময়না ও পিংলার বিভিন্ন সরকার পোষিত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়ে একইভাবে ন্যাপকিন ব্যবহারের সচেতনতা শিবির ও বিনামূল্যে ন্যাপকিন বিতরণ শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
