আকাশের যুদ্ধে পাকিস্তানের এফ-১৬ গুলি করে নামিয়েছিলেন। ৩ দিন পাকিস্তানে বন্দি থাকার পরও নিজের দেশের প্রতি নিষ্ঠা ও কর্তব্য থেকে একচুলও নড়েননি। সেই অভিনন্দন বর্তমান এবার বায়ুসেনা থেকে অবসর নিলেন। গোয়ার স্থানীয় একটি বিমানসংস্থায় পাইলট হিসাবে যোগ দিয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় জম্মু থেকে শ্রীনগরের যাওয়ার পথে সেনার কনভয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় জইশ জঙ্গি গোষ্ঠী। ওই বিস্ফোরণে শহিদ হন ৪০ জনের বেশি জওয়ান। ১২ দিনের মাথায় আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে জইশ জঙ্গিঘাঁটিতে পালটা হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। ধ্বংস করে দেয় বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর আকাশপথে ভারতে ঢুকে পালটা হামলার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান এফ-১৬। যদিও ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেয়নি। বায়ুসেনার তৎকালীন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান মিগ-২০০ নিয়ে পাক যুদ্ধবিমানটিকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েন। এবং গুলি করে নামান পাকিস্তানি এফ-১৬ বিমানটিকে।
আরও পড়ুন:


যদিও এই ঘটনার পরেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ায় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে সে দেশের প্রশাসন। এদিকে অভিনন্দনের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয় ভারত-সহ গোটা বিশ্ব। পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দেয় রাষ্ট্রসংঘও। শেষে কূটনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। মুক্তি দেওয়া হয় অভিনন্দন বর্তমানকে। ৩ দিন পাকিস্তানে ছিলেন অভিনন্দন। কিন্তু ৩ দিনে কোনওরকম চাপের মুখে মাথা নোয়াননি তিনি। দেশে ফেরার পর তাঁকে বীর চক্রে সম্মানিত করা হয়। বায়ুসেনায় পদোন্নতিও হয়।
তবে ওই ঘটনার ৭ বছরের মাথায় একপ্রকার নীরবে বায়ুসেনাকে বিদায় জানালেন অভিনন্দন। সময়ের আগেই বায়ুসেনা থেকে অবসর নিলেন। জানা গিয়েছে আগস্ট মাসেই গোয়ার FLY91 নামের স্থানীয় একটি বিমানসংস্থায় কাজ শুরু করেছেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ওই বিমানসংস্থাটি যাত্রা শুরু করেছে। গোটা ছয়েক ATR 72-600 বিমান রয়েছে সংস্থাটির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
