গাইঘাটায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন! নির্যাতিতার পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার বনগাঁ লোকসভার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর নির্যাতিতার পরিবারের হাতে এই চেক তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর মহকুমা শাসক প্রগতি নটিয়াল। শান্তনু ঠাকুর নির্যাতিতার বাবার হাতে চেক তুলে দেন। জানান, “মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাঠিয়েছেন। আপনাদের পাশে আমরা সবাই আছি৷” পরিবারের তরফ থেকে এদিন মন্ত্রীর কাছে পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার আবেদন করেছেন। উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্ষণ-খুনের ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘটনার ১০ দিন পর সেই নিয়ম মেনেই ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে এই আর্থিক সাহায্য মেয়ে হারানোর ক্ষতে প্রলেপ দিতে না পারলেও, অর্থনৈতিক কোনও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে মনে করেছেন অনেকেই। চেক হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ছাত্রীর বাবা-মা ৷ বাবা বলেন, “মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না। অভাবের সংসার, আমরা অসুস্থ৷ এই অর্থে কিছুটা সুরাহা হবে।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুজোর সকালে এক আত্মীয়ার বাড়ির বাথরুমের সামনে থেকে অর্ধনগ্ন ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। তদন্তে নেমে পুলিশ নির্যাতিতার এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার তিন দিন পর তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার অজুহাতে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালায়। পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের।
এদিকে ছেলের এনকাউন্টারে মৃত্যুতে প্রশ্ন তুলে আর্থিক সাহায্যের দাবি করেছেন অভিযুক্তের মা। উত্তর ২৪ পরগনা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম মেনে মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য চিঠি গিয়েছে। সেই মোতাবেক কাজও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
