খেতে বসার ধরনের উপর নির্ভরশীল হজম ক্ষমতা, প্রাচীন ভারতের এই ৫ আচার মেনে হোক পরিতৃপ্তির ভোজন

খেতে বসার ধরনের উপর নির্ভরশীল হজম ক্ষমতা, প্রাচীন ভারতের এই ৫ আচার মেনে হোক পরিতৃপ্তির ভোজন

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


আধুনিক প্রজন্ম প্রায়শই মনে করে, পুরনো দিনের মানুষেরা যা করেছে, সবেতেই কিছু না কিছু খুঁত রয়েছে! কেবল কথার ভঙ্গি, পোশাকের ধরন কিংবা খাদ্যাভ্যাস নয়, দৈনন্দিন অভ্যাসের ক্ষেত্রেও তাই ‘আপডেটেড’ হতে চায় নতুন যুগের মানুষরা। কিন্তু সবক্ষেত্রেই কি তা সঠিক? নয় বলেই তো নানা নতুন রোগের শিকার হতে হয় আজকের মানুষদের। অহরহ ডাক্তার-ওষুধ লেগেই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আগেকারদিনের মানুষদের সুস্থতার চাবিকাঠি ছিল তাদের রোজের অভ্যাসের মধ্যেই। বিশেষত, খাওয়ার সময় এমন কিছু আচার মেনে চলতেন তারা, যাতে হজমের গণ্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত না।

4 eating habits from ancient india which helps aid digestion

আরও পড়ুন:

হাত দিয়ে খাবার খাওয়া
আধুনিকতার পরিভাষার অনেকখানিই পাশ্চাত্য সভ্যতাকে অনুকরণ করায় নিহিত। হাত দিয়ে খাবার খাওয়াকে তাই অপরিচ্ছন্ন বলে মনে করেন অনেকে। বদলে চামচ-ছুরি-কাঁটার ব্যবহার শেখায় গুরুত্ব দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাত যখন খাবার তুলে মুখের কাছে নিয়ে আসে, তখন সচল হয়ে ওঠে ইন্দ্রিয়। আয়ুর্বেদ মতে, আমাদের পাঁচ আঙুলের অগ্রভাগ পঞ্চভূত অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও ব্যোমের সঙ্গে মানবদেহের সংযোগ ঘটায়।

মেঝেতে বসে খাওয়া
বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে নেহাত প্রয়োজন না পড়লে মেঝেতে বসে খান না গৃহস্থ। চেয়ার-টেবিলে খাওয়ার অভ্যেস নেই, এমন মানুষই বরং খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং অনেকেই আবার মেঝেতে বসে নিচু হয়ে খেতে অস্বস্তি পান। কিন্তু মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার সময় যেহেতু আমরা নিচু হই, মুখে খাবার দিয়ে আবার সোজা করি শিরদাঁড়া, খাবার সহজে খাদ্যনালী মারফত ভিতরে আসতে পারে। হজম সহজ হয়।

দুপুরের খাওয়ায় গুরুত্ব
প্রাচীন ভারতের বিশ্বাস, সূর্য যখন মধ্যগগনে, হজম তখনই সব চাইতে ভালো হয়। পাশ্চাত্য মত মেনে হয়তো আজকাল ‘ডিনার পার্টি’-র হিড়িকই বেশি। কিন্তু ভারী খাবার হজম করতে চাইলে দুপুরের সময়টিই বেছে নেওয়া উচিত, জানিয়েছে শাস্ত্র। এতে রোগ-বিসুখ কম হয়।

4 eating habits from ancient india which helps aid digestion

শেষপাতে মিষ্টিমুখ
মেদ ঝরাতে মিষ্টি পুরোপুরি বাদ থাকে বাঙালির পাতে। আলেকালে ইচ্ছে হলে, অথবা অনুষ্ঠান উপলক্ষেই কেবল শেষপাতে ঠাঁই পায় মিষ্টি। কিন্তু প্রাচীন ভারতে মনে করা হত, খাওয়া শেষ করে সামান্য মিষ্টি খেলে হজমের সুরাহা হয়। যে কারণে এক টুকরো গুড় অন্তত রাখাই হত শেষপাতে।

খাওয়ার সময় চুপ থাকা
খেতে বসে গল্পগুজব করা হয় ঠিকই, কিন্তু প্রাচীন ভারতের একান্ত বিশ্বাস ছিল, খাওয়ার সময় চুপ থাকাই শ্রেয়। নয়তো, হজমক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। খাওয়ার শুরুতে ভোজনমন্ত্র বলে খাবারে হাত ছোঁয়ানো উচিত। নিদেনপক্ষে শান্ত মনে ‘ওম’ উচ্চারণ করা উচিত খাবারের সম্মুখে বসে। এতে খাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। নিত্যদিন যেখানে অনাহারে মানুষের মৃত্যু হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত প্রত্যেকদিনের খাবারের প্রতি। এতে যে কেবল খাওয়া পরিতৃপ্তির হয়, তাই নয়। খাবার নষ্ট করার প্রবণতাও কমে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *