কবিতা

কবিতা

শিক্ষা
Spread the love


নদীকথা

বিনীতা সরকার

জীবনও একদিন ধীরে ধীরে

পা বাড়ায় নদীর দিকে

মুঠো গলে বেরিয়ে যায় সমস্ত বালুকণা

স্বপ্নগুলো ঝুপ করে ডুব দেয়

অস্তগামী সূর্যের হাতে হাত রেখে অস্তাচলের দেশে

রংগুলো হঠাৎ জলে ধুয়ে গেলে

আকাশ নির্বিকার গায়ে জড়িয়ে নেয়

শাদা থান

নদীর একলা বুকে তখন জেগে

উথালপাতাল ঢেউ

আর শামুকের খোলে পড়ে থাকে জীবনের

সমস্ত সঞ্চয়

ক্ষরণ

অঙ্কুর মহন্ত

যত ক্ষয় বেছে নিয়েছে এই সময়

যার বুকেই হাত রাখি দেখি আমারই রক্ত,

আমারই অবশেষ পাঁজর,

প্রহর খুঁড়ে দেখি জীবাশ্মের হয়েছে

সেরে ওঠা সকল অসুখ।

আমাকে ভেঙে ফেলার আগে আহত হয়

দুপুর হতে চাওয়া ঘোলা জল।

কাগজের সন্ধি ছিঁড়ে দেয় শাশ্বত বিশ্বাস

জন্মের এত কাছে সন্ধ্যা নামায় তীব্র অক্ষর।

চোখের সামনে মৃত আবির যদি ছুঁয়ে ফেলি

যদি আবার বলো আহত হতে-

কী হবে তখন?

কী-ই বা হবে এত লিখে?

হন্যমান রাত্রের ভেতর 

শঙ্খ চট্টোপাধ্যায়

একটা প্রোজ্জ্বল প্রোফাইলের ভেতর

কয়েক শতাব্দীর অন্ধকার,

অজস্র হাসিমুখ আর দিগন্তপ্লাবী উল্লাসের মধ্যে

কখন যে বাসা বেঁধেছে গভীর বিষাদ…

সত্যি নয়, মিথ্যে নয়, মায়ার মতো বাস্তব

অবিশ্বাস্য ফাঁদ পেতে আছে,

তাই যাকে মনে হচ্ছিল দিনের মতো ধবধবে

সে আসলে রাতের মতো

কালো ও পিচ্ছিল একটা ঢালুপথ

যা ধরে গড়াতে গড়াতে তুমি আর আমি

ক্রমশ নেমে যাচ্ছি

অনিবার্য সুইসাইড নোটটির দিকে…

ডুয়ার্স

ঋতব্রত গুহ

যা কিছু মেঘ ছিল সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে চড়াদামে।

বিক্রি হয়েছে শালগাছ, হাইওয়ে, গরুমারা জঙ্গল,

আরও কত কিছু-

জলপাই রঙের মুখোশ পরে যে ছেলেটা ঘুরে বেড়াত

উন্মুক্ত আকাশের খোঁজে, যার জামায় লেগে থাকত বন্য মাটির গন্ধ,

সেও নাকি নিলামে বিক্রি হয়েছে।

জীবদ্দশায় আরও কত কিছু যে বিক্রি হতে দেখব!

মায়ের সেলাই মেশিন, সকালে হরিণচোখা শিশির, চোখের নোনা জল-

সব একে একে বিদায় নেবে।

চিৎকার করে কাঁদবে মৃতপ্রায় সবুজ ঘাস,

চিৎকার করে কাঁদবে পূর্ণিমার চাঁদ।

একদিন, চিৎকার করে কাঁদবে ডুয়ার্সের সব রিসর্ট।

আমি শিলিগুড়ির কাঁধে মাথা রেখে রাত জাগব সেদিনও,

নিঃশব্দ মধ্যরাতে গায়ে মাখব ডুয়ার্সের আদিম গন্ধ।

The submit কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *