গ্লাসগোয় আবারও ভারতকে তাড়া করল ‘চতুর্থ স্থানের অভিশাপ’। শুক্রবার এসইসি আর্মাডিলোতে পুরুষদের লাইটওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের নজির গড়েও পদক জিততে পারলেন না ভারতের অশোক মালিক। দুরন্ত লড়াইয়ের পর তিনি শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানেই সন্তুষ্ট থাকেন।
প্রথম প্রচেষ্টায় ১৯৫ কেজি ও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ২০০ কেজি ওজন তোলেন অশোক। দ্বিতীয় লিফটটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সেরা। এএইচ (হালেচকো) কো-এফিসিয়েন্টে তিনি অর্জন করেন ১৪৩.৮ পয়েন্ট। দীর্ঘক্ষণ পদকের দৌড়ে ছিলেন। তবে তৃতীয় প্রচেষ্টায় ২০৫ কেজি তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় পিছিয়ে পড়েন। ১৫৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন মালয়েশিয়ার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বনি বুনিয়াউ গুস্তিন। ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান ২২২ কেজি তুলে ১৫৩.৯ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন। নাইজেরিয়ার রোল্যান্ড এজুরুইকে কাউন্টব্যাকে রুপো পান।
আরও পড়ুন:
হরিয়ানার সোনিপত জেলার মির্জাপুর খেরি গ্রামের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সি অশোক মালিক ভারতের অন্যতম সফল প্যারা পাওয়ারলিফটার। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ন’বার সোনা জিতেছেন। ২০১৮ এশিয়ান প্যারা গেমসে গুরুতর চোট পেয়ে তাঁর হাতের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের আশঙ্কা দূর করে দীর্ঘ রিহ্যাব শেষে তিনি আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসেন। প্রত্যাবর্তনের পর ২০২২ এশিয়া-ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, হ্যাংঝৌ এশিয়ান প্যারা গেমসে ব্রোঞ্জ, ২০২৪ বিশ্বকাপে রুপো এবং প্যারিস প্যারালিম্পিকে ব্যক্তিগত সেরা ২০৬ কেজি তুলে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন অশোক। চলতি বছর ব্যাংককে এশিয়া-ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পদকের অন্যতম দাবিদার হিসাবেই এসেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদক এনে দিতে পারল না।
India’s Ashok Kumar Malik finally ends up at quantity 4 within the light-weight class of para powerlifting
Paramjeet Kumar finally ends up at quantity 7
Effectively finished !! https://t.co/Qmtyzt6gZw pic.twitter.com/Yh2KLpl7nA
— Madhur Kapoor (@MadhurKapoor12) July 24, 2026
ভারতের অপর প্রতিযোগী পরমজিৎ কুমার ১৭৬ কেজি ওজন তুলে ১৩৫.৬ পয়েন্ট অর্জন করেন। পরবর্তী দুই প্রচেষ্টায় সফল না হলেও তিনি ১২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সপ্তম স্থানে শেষ করেন। অন্যদিকে, পাওয়ারলিফটিংয়ে গ্রুপ এ-তে সুমন দেবীও হতাশ করেন। তিনি শেষ করেন সাতে। গ্রুপ বি-তে ষষ্ঠ হন জসপ্রীত কৌর। উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ের মার্জড বিভাগে কেবল তোলা ওজনের ভিত্তিতে নয়, এএইচ (হালেচকো) কো-এফিসিয়েন্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতিযোগীর শরীরের ওজন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট গুণাঙ্ক প্রয়োগ করে পয়েন্ট হিসাব করা হয়, যাতে বিভিন্ন ওজন বিভাগের প্রতিযোগীদের মধ্যে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে চতুর্থ স্থান যেন এক দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে মিলখা সিংয়ের স্বপ্নভঙ্গ, ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পিটি ঊষার এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে পদক হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা এখনও অনেককে স্মৃতিমেদুর করে তোলে। পরবর্তী দশকেও চতুর্থ স্থানের হতাশা থেমে থাকেনি। ২০১২ সালে শুটিংয়ে জয়দীপ কর্মকার, ২০১৬ সালে জিমন্যাস্টিকসে দীপা কর্মকার, ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অভিনব বিন্দ্রা, গলফে অদিতি অশোক এবং টেনিসের মিক্সড ডাবলসে রোহন বোপান্না-সানিয়া মির্জাও পদকের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানেই থেমে গিয়েছিলেন। এবারের কমনওয়েলথেও সেই আক্ষেপ ঘুচল না। তবে এটা সবে শুরু। আশা, ভারতের হাত ধরে অনেক অনেক পদক আসবে। ঠিক এই কথাটাই ভারতীয় অ্যাথলিটদের শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী এবংরাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
