উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় পেস বোলিংয়ের ভাঁড়ার পূর্ণ রাখতে কোমর বেঁধে নামল বিসিসিআই (BCCI)। লক্ষ্য একটাই— জাতীয় দলের জন্য ব্যাক-আপ পেসারদের একটি শক্তিশালী তালিকা তৈরি রাখা। আর এই গুরুদায়িত্ব পালনে বোর্ডের তুরুপের তাস প্রাক্তন বাঁ-হাতি পেসার জাহির খান। বেঙ্গালুরুর অত্যাধুনিক ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ (COE)-এ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির, যেখানে জহিরের থেকে প্রশিক্ষন নিচ্ছেন দেশের একঝাঁক প্রতিশ্রুতিমান তরুণ পেসার।
ট্রয় কুলির বিদায় ও জাহিরের এন্ট্রি
দীর্ঘদিন এই দায়িত্বে থাকা ট্রয় কুলির চার বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। ৬০ বছর বয়সী কুলি আর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। এরপর নতুন কোচের জন্য বিসিসিআই বিজ্ঞাপন দিলেও, কাউকেই এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। কিন্তু প্রতিভা অন্বেষণের কাজ যাতে থমকে না যায়, তাই তড়িঘড়ি জাহির খানকে অনুরোধ জানায় বোর্ড। আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর হিসেবে কাজ করা জহিরও এই প্রস্তাবে সানন্দে রাজি হয়েছেন।
শিবিরের ভেতরে যা ঘটছে
বর্তমানে ভিভিএস লক্ষ্মণের তত্ত্বাবধানে চলা এই শিবিরে জহির খান তরুণদের কেবল টেকনিক নয়, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল করার পাঠ দিচ্ছেন। বিসিসিআই-এর এক কর্তা জানিয়েছেন: জাহির এই কাজে দারুণ উৎসাহী। সে বিশ্বাস করে আগামী প্রজন্মের পেসারদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করার এটাই সেরা সময়। সে যদি স্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব নিতে চায়, তবে বোর্ড অত্যন্ত খুশি হবে।
সিওই ও জাতীয় দলের মেলবন্ধন
বোর্ডের বর্তমান পরিকল্পনা হলো জাতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর এবং তাঁর সাপোর্ট স্টাফদের সাথে এই সিওই-র সমন্বয় আরও বাড়ানো। অতীতে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক এনসিএ-তে কাজ করার ফলে সুবিধা হয়েছিল। এবার পেস বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও সেই একই মডেল অনুসরণ করতে চাইছে বিসিসিআই, যাতে বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বোলাররা তৈরি হতে পারেন।
কেন এই উদ্যোগ?
বর্তমানে ভারতীয় দলে জসপ্রীত বুমরাহ বা মহম্মদ শামিদের বিকল্প হিসেবে অনেক নাম উঠে আসছে। কিন্তু লম্বা মরসুমে চোট-আঘাতের সমস্যা সামলাতে হাতে অন্তত ১০-১২ জন তৈরি পেসার রাখা প্রয়োজন। জাহিরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
