উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মাধ্যমিক পাশের নূন্যতম যোগ্যতায় রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘যুবসাথী’ বা বেকার ভাতা প্রকল্প। কিন্তু আবেদনকারীদের লাইন বলছে অন্য কথা। কোথাও ষাটোর্ধ্ব বাবা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ছেলের ফর্ম জমা দিতে, আবার কোথাও উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীরা ভিড় জমিয়েছেন স্রেফ একটি সরকারি ভাতার আশায়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্পের শুরুতেই পাওয়া তথ্য রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। রবি ও সোমবার মিলিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত কেবল ‘যুবসাথী’র জন্যই জমা পড়েছে ১৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৩৬টি আবেদন।
রাজ্যজুড়ে মোট ১,৬০৪টি ক্যাম্পে এই দুই দিনে সব প্রকল্প মিলিয়ে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫০। এর মধ্যে বড় অংশই বেকার ভাতার জন্য। শুধু শিবিরেই নয়, অনলাইন পোর্টাল চালু হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানেও জমা পড়েছে আরও ১ লক্ষ ২০ হাজার আবেদন। সব মিলিয়ে রাজ্যে বেকারত্বের এক করুণ অথচ বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে এই তথ্যে।
জেলা ভিত্তিক খতিয়ান: শীর্ষে কে, শেষে কে?
আবেদনকারীদের সংখ্যার বিচারে জেলাগুলির মধ্যে এক বড় তারতম্য দেখা গিয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা এই তালিকায় সবার উপরে। অন্যদিকে পাহাড়ের ছোট জেলা কালিম্পং রয়েছে তালিকার একদম নিচে।
এক নজরে শীর্ষ ৫ জেলা:
- মুর্শিদাবাদ: ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৪৬টি আবেদন (শীর্ষে)
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫১৫টি আবেদন
- বাঁকুড়া: ৯২ হাজার ৬৮১টি আবেদন
- পুরুলিয়া: ৯১ হাজার ৫৪৫টি আবেদন
- উত্তর ২৪ পরগনা: ৮৯ হাজার ৬৯৬টি আবেদন
বিপরীতে, পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ে আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৩৭৬টি এবং কালিম্পংয়ে সবথেকে কম ৩ হাজার ৯৩৯টি। মহানগরে (কলকাতা) এই সংখ্যাটা ৩২ হাজার ৮৩৮।
ভাতা না কি কর্মসংস্থান?
প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের দাবি, এই বিপুল সাড়াপ্রদান প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের সরকারি প্রকল্পের ওপর ভরসা বেড়েছে। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করা ছেলে-মেয়েরা কেন ১৫০০ টাকার বেকার ভাতার লাইনে দাঁড়াবে? যুবসাথীর পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং খেতমজুর ভাতার জন্য প্রায় ২ লক্ষ আবেদন জমা পড়ায় বোঝা যাচ্ছে, সরকারি ‘সামাজিক সুরক্ষা’ প্রকল্পের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
