উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ‘হোয়াইট ফসফরাস’ (White Phosphorus) ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (HRW)।
যহমোর শহরে ধ্বংসলীলা
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ লেবাননের যহমোর (Yohmor) শহরে ইজরায়েলি বাহিনী কামানের গোলার মাধ্যমে এই অগ্নিসংযোগকারী রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, তারা সাতটি ছবি যাচাই এবং জিওলোকেট (Geolocate) করে নিশ্চিত হয়েছে যে, আবাসিক এলাকার ওপর এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এর ফলে অন্তত দুটি বাড়ি এবং একটি গাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবানন বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস (Ramzi Kaiss) বলেন, “জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইজরায়েলি বাহিনীর এই বেআইনি হোয়াইট ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা এমন ভয়াবহ ক্ষত হতে পারে যা সারাজীবনের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
হোয়াইট ফসফরাস আসলে কী?
হোয়াইট ফসফরাস একটি রাসায়নিক পদার্থ যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসামাত্র জ্বলে ওঠে। এটি সাধারণত ধোঁয়ার আড়াল তৈরি করতে বা লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হলেও, জনবহুল এলাকায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
অস্ত্রের ধরন শনাক্তকরণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ধোঁয়ার বিশেষ ‘নাকল’ (knuckle) আকৃতি দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এগুলো ‘M825-series’ ১৫৫ মিলিমিটারের আর্টিলারি প্রজেক্টাইল, যা হোয়াইট ফসফরাস বহনে সক্ষম।
সরে যাওয়ার নির্দেশ ও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত
এদিকে, লেবাননের রাজধানী বেইরুটের (Beirut) দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের এটি একটি সুস্পষ্ট সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, নাগরিকদের উত্তর ও পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার জন্য মানচিত্র প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পুরানো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসেও গাজা এবং লেবাননের সীমান্তে ইজরায়েল একই ধরনের নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। যদিও সে সময় ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার উসকে দিয়েছে।
