ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের। বিরল হয়েছে রোজকার একান্ত প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাস। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইন্ডাকশন ওভেনের চাহিদা। এমনিতে এ ধরনের ওভেন ব্যবহার করা সোজা। অনেকেই যারা মেসবাড়ি অথবা ভাড়াবাড়িতে দু-একজনের মতো রান্না করে থাকেন, তাঁরা চোখ বুজে ভরসা করেন ইন্ডাকশনে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু বিষয় যখন পরিবারের সকলের তিনবেলার রান্না করা, তখন মাথায় রাখতেই হয় আরও একটি বিষয়। তা হল বিদ্যুৎ খরচ। অনেক সময়েই অসাবধানতাবশত এমনভাবে এই যন্ত্রের ব্যবহার করে থাকে গৃহস্থ, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে বাড়ির ইলেকট্রিক মিটারটির ওপর। অযাচিত বিদ্যুৎ অপচয় রুখতে অবলম্বন করা যেতে পারে কয়েকটি কৌশল।


১। অনেকেই মনে করেন, প্রি-হিট না করলে ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার করা যায় না। এ কথা সঠিক নয়। ইন্ডাকশন জলদিই গরম হয়ে যায়। তাই একান্ত প্রয়োজন না থাকলে প্রি-হিট করবেন না। যা রান্না করতে চান, সেই অনুযায়ী সেট করে নিন তাপমাত্রা। আর ব্যাস, মনমতো খাবার রেঁধে ফেললেই হল!
২। জানেন কি, ইন্ডাকশন ব্যবহারে কতখানি বিদ্যুৎ পড়ছে, তা নির্ভর করে রান্নার পাত্রটির উপরেও! আজ্ঞে হ্যাঁ, ইন্ডাকশন ওভেনে রান্নার উপযোগী বিশেষ পাত্র পাওয়া যায়, যা সাধারণ রান্নার পাত্রের চাইতে কিছুটা আলাদা। এ জাতীয় পাত্রগুলির মসৃণ তলদেশে ম্যাগনেটিক বেস থাকে। পাত্রগুলি তৈরি হয় স্টেনলেস স্টিল অথবা কাস্টে আয়রনে। এতে খাবার জলদি প্রস্তুত করা যায়, ফলে বেশিক্ষণ ইন্ডাকশন চালিয়ে রাখতে হয় না।
৩। রান্নার সময় যতটা সম্ভব, ঢাকা দিয়ে রাখুন ওভেনে বসানো পাত্রটি। এতে ভিতরের খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়। এমনটা যদিও সবক্ষেত্রেই কার্যকর। তাছাড়া ইন্ডাকশনের আকার অনুযায়ী পাত্র বেছে নিন। পাত্র ওভেনের মাপমতো না হলে বিদ্যুৎ অপচয় বাড়ে। অল্প অল্প করে প্রতি বেলায় বাঁচালেই, অনেকখানি বিদ্যুৎ বাঁচানো যাবে সব মিলিয়ে।


৪। যদি ইন্ডাকশন ওভেনটি দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকে, তবে তা-ও হয়ে উঠতে পারে বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ। তেল-কালি ওভেনের কুকটপে জমতে শুরু করলে তাপ বেরোতে বাধা পায়। ফলে তা সরাসরি প্রভাবিত করে ভিতরের যন্ত্রাংশকে।
আরও পড়ুন:
৫। কাজ মিটলে অবশ্যই প্রতি বেলায় সুইচ অফ করুন ইন্ডাকশন ওভেন। এই যন্ত্র উত্তপ্ত হতে বা শীতল হতে তেমন সময় লাগে না। ফলে রান্না শুরুর আগে সুইচ অন করে নিলেই যথেষ্ট। মেন সুইচ অন থাকলে, আপাতভাবে মনে না হলেও বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হতে পারে।
সর্বশেষ খবর
