সংসদে দাঁড়িয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। কিন্তু আমজনতার ভোগান্তি বাড়ছেই। বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের আগে দ্বিতীয়বার গ্যাস বুক করা যাবে না। শহরের ক্ষেত্রে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে দ্বিতীয় গ্যাসের জন্য। প্রশ্ন উঠছে, গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের জন্যও কেন এতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
আরও পড়ুন:
গ্যাস নিয়ে দেশজুড়ে চলা আতঙ্ক এবং উদ্বেগের মধ্যেই পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। ঘোষণা করেন, “অতীতে এমন কঠিন সময় দেখেনি আমাদের দেশ। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের জোগানে বিরাট প্রভাব পড়েছে। তবে দেশের অন্দরে গ্যাস সরবরাহে কোনও ঘাটতি হয়নি। কিন্তু আমজনতা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। তাই বেশি পরিমাণে গ্যাস কিনে মজুত করতে চাইছেন। সেকারণেই গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”
গ্যাস সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে ক্রমশ রাশ টানছে কেন্দ্র। আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যেও। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, লক ইন পিরিয়ডে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রয়োজনের সময় গ্যাস মিলবে কোথায়?
যুগ্মসচিব জানিয়েছেন, একবার গ্যাস বুক করলে শুরু হয়ে যাবে লক ইন পিরিয়ড। অর্থাৎ ওই নির্দিষ্ট সময়ে সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। শহরাঞ্চলে এই লক ইন পিরিয়ড থাকবে ২৫ দিনের জন্য। গ্রামাঞ্চলের জন্য এই সময়সীমা আরও বেশি। গ্রাম এবং দুর্গম এলাকায় লক ইন পিরিয়ড থাকবে ৪৫ দিন ধরে। যদিও বুধবার তিনি জানিয়েছিলেন, বুকিংয়ের আড়াইদিনের মধ্যেই মিলবে গ্যাস। সেই সময়সীমার পরিবর্তন নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ১৩ দিন ধরে চলছে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ। তার জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। ওই এলাকা দিয়েই ভারতের প্রয়োজনীয় তেল এবং গ্যাস সরবারহ করা হয়। যদিও বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, “দেশে গ্যাস বা তেলের কোনও সংকট নেই। সরবরাহও স্বাভাবিক।” কিন্তু তা সত্ত্বেও গ্যাস সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে ক্রমশ রাশ টানছে কেন্দ্র। আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যেও। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, লক ইন পিরিয়ডে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রয়োজনের সময় গ্যাস মিলবে কোথায়? উত্তর অধরাই।
সর্বশেষ খবর
