উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশভাগের যন্ত্রণা ও বঙ্গ বিভাজনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবার মহাসমারোহে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Diwas) পালন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী ২০ অগস্ট, ১৯৪৭ সালের এই দিনে অখণ্ড বাংলার বিধানসভায় বাংলা ভাগের বিল পাস হওয়ার দিনটিকে স্মরণ করে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নবান্নের (Nabanna) তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দিবস পালনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জানা গিয়েছে, এই উপলক্ষ্যে কলকাতায় আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় জেলাশাসককে মাথায় রেখে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে পুলিশ সুপার ও জেলা স্কুল পরিদর্শকরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং আলোচনাসভার মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশভাগের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। স্কুল পড়ুয়াদের ইতিহাস সচেতন করে তুলতে পাঠাগার ও সংগ্রহশালায় পরিদর্শনের মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে এই দিবস পালন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষক মহলে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের মতে, দেশভাগ শোকের বিষয়, তাই এই দিনটি উদযাপনের ক্ষেত্রে সংযত থাকা প্রয়োজন। সরকারের ‘গৌরবজনক ইতিহাস’ ঘোষণার অস্পষ্টতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এতদিন বঙ্গ বিভাজনের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, আমরা চাই মানুষ আসল ইতিহাস জানুক।”
যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বহু জেলায় স্কুল পরিদর্শকরা সরকারি নির্দেশিকা হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে প্রস্তুতি কিছুটা ধীরগতিতে চললেও, নবান্নের এই নির্দেশ অনুযায়ী স্কুল-কলেজে কর্মসূচি রূপায়ণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশভাগের এই সংবেদনশীল ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নতুন সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
