মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ভারতে তেল এবং গ্যাস সরবরাহে সংকট শুরু হয়েছে। আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যে। এর মধ্যেই শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও। মনে করা হচ্ছে, যুদ্ধ যদি এখনই না থামে তাহলে ওষুধের কাঁচামাল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের আমদানি থমকে যেতে পারে। ফলে খরচ বাড়বেই। আর তাহলে পকেটে টান পড়বে আমজনতার।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ যদি থামে তাহলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ওষুধের কাঁচামালের দাম ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর ফলে ওষুধের দাম রাতারাতি অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। হিমাচলপ্রদেশের ৫০০টি ওষুধ প্রস্তুতকারক ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হিমাচল ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের হাতে। তারা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছে সরকার যেন বিষয়টিতে এখনই হস্তক্ষেপ করে।
এদেশে সবচেয়ে ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধের মধ্যে অন্যতম প্যারাসিটামল। জ্বর হলেই এই ওষুধ কে না খেয়েছে! এই ওষুধের কাঁচামালের মূল্য কেজি প্রতি ২৫০ টাকা। তা রাতারাতি বেড়ে ৪৫০ টাকা হতে পারে। নির্মাতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি খরচ এই গতিতে বাড়তে থাকে, তবে বর্তমান মূল্যে উৎপাদন বজায় রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এখনই যে ওষুধের দাম বাড়ছে না, তার কারণ এখনও প্যারাসিটামল-সহ অন্যান্য ওষুধ যথেষ্ট মজুত রয়েছে।
বলে রাখা ভালো, ভারতের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্মা শিল্প আসলে আমদানি-নির্ভর। কাঁচামালের বড় অংশই আসে বিদেশ থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নিয়ে আসাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে ভাড়াও বেড়েছে। সব মিলিয়ে খরচটা বাড়ছে। আর এতেই বাড়ছে সংশয়। যুদ্ধ না থামলে কি তবে দাম লাফিয়ে বাড়বে? আপাতত আশঙ্কার মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ খবর
