উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সকালের গরম লুচি কিংবা বিকেলের স্যান্ডউইচ— বাঙালির খাদ্যতালিকায় ময়দার আধিপত্য প্রশ্নাতীত। তবে ফিটনেস সচেতনদের কাছে ইদানীং ময়দা যেন এক ‘বিষের’ নাম। সমাজমাধ্যম প্রভাবীদের পরামর্শে অনেকেই ডায়েট থেকে ময়দা পুরোপুরি ছেঁটে ফেলছেন (Well being Suggestions)। কিন্তু প্রশ্ন হল, ময়দা কি সত্যিই এতটাই ক্ষতিকর? নাকি সঠিক নিয়ম মেনে খেলে ভয়ের কিছু নেই?
কেন ময়দা নিয়ে এত বিতর্ক?
মূলত অতি-প্রক্রিয়াজাত হওয়ার কারণেই ময়দা তার পুষ্টিগুণ হারায়। প্রস্তুতির সময় গমের উপরের স্তর ও অঙ্কুর ছেঁটে ফেলায় এতে ফাইবার বা তন্তু থাকে না বললেই চলে। ফলে এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে ডায়াবিটিস ও স্থূলত্বের ঝুঁকি বাড়ে। ফাইবারহীন এই খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণও হতে পারে।
কতটা ময়দা আপনার জন্য নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, ময়দা খাদ্যতালিকায় ব্রাত্য করার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণের।
পরিমাণ: একজন সুস্থ মানুষ দিনে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ গ্রাম ময়দা খেতে পারেন (যা ২-৩টি ছোট লুচি বা ১টি মাঝারি পরোটার সমান)।
সতর্কতা
প্রতিদিনের ক্যালোরির মাত্র ১০-১৫% রিফাইন শর্করা থেকে আসা উচিত। তবে ওজন কমাতে চাইলে সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি ময়দা না খাওয়াই ভালো। ডায়াবিটিস বা গ্লুটেন অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে ময়দা খেলেও শরীরকে বিপদমুক্ত রাখার কিছু সহজ উপায় আছে:
১. রান্নায় ময়দা ও লাল আটা ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
২. ময়দা খাওয়ার দিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন, যা হজমে সহায়তা করবে।
৩. ময়দার তৈরি খাবারের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি বা স্যালাড খান। ফাইবার যুক্ত হলে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়বে না।
