উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই পুজো-পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হল উপোস। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে অনেকেই সারাদিন অন্ন-জল ত্যাগ করে ‘নির্জলা’ ব্রত পালন করেন (Waterless Fasting)। তবে ভক্তি আর বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। চিকিৎসকদের মতে, খাবার না খেয়ে উপোস করা শরীরের ডিটক্স বা শুদ্ধিকরণে সাহায্য করলেও, জল না খাওয়া উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি বাড়ায়।
কেন জলহীন উপোস বিপজ্জনক?
কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস: শরীরের টক্সিন বা বর্জ্য বার করে দেওয়াই কিডনির মূল কাজ। জল না খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং বর্জ্যগুলো শরীরেই জমতে থাকে। এতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিপাক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন: খাবার না খেলে শরীর সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি তৈরি করে। কিন্তু এই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার জন্যও জলের প্রয়োজন। জলহীন অবস্থায় এই প্রক্রিয়া শরীরের ভেতরে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা: শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে জল। জলের অভাবে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে টান ধরা এমনকি অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তীব্র জলাভাব বা ডিহাইড্রেশন: আমাদের মস্তিষ্ক ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য জল অপরিহার্য। সারাদিন জল না খেলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এর ফলে তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে যে কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন।
উপোস বা ব্রত পালনের উদ্দেশ্য শরীর ও মনকে শুদ্ধ করা। কিন্তু শরীরকে কষ্ট দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া কোনও ধর্মই সমর্থন করে না। তাই সুস্থ থাকতে উপোসের সময় পর্যাপ্ত জল, ডাবের জল বা ফলের রস খাওয়া একান্ত জরুরি। মনে রাখবেন, ভক্তি থাকুক মনে, কিন্তু শরীরের যত্ন নিতে হবে বিজ্ঞানের নিয়মেই।
