প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই পূর্ব বর্ধমান (Voter checklist title deleted Bardhaman) জেলায় সামনে এল নির্বাচন কমিশনের এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর পদক্ষেপ। যাঁকে ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার চিহ্নিত করার গুরুদায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নিজের নামই এখন ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়া ভোটারের তালিকায়। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
মাইক্রো অবজার্ভারেরই নাম বাদ:
মেমারির বৈদ্যডাঙার বাসিন্দা রজত বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের (LIC) মালদা ডিভিশনের ডেভেলপমেন্ট অফিসার। সম্প্রতি কমিশন তাঁকে উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তাঁর কাজ ছিল সন্দেহভাজন ভোটারদের তথ্য যাচাই করা। অথচ মেমারি বিধানসভার ১২৮ নম্বর বুথের ৩৪৩ নম্বর সিরিয়াল অনুযায়ী, রজতবাবুর নামের ওপরেই এখন জ্বলজ্বল করছে ‘ডিলিটেড’ সিলমোহর।
শুনানিতে পাসপোর্ট ও কেন্দ্রীয় সরকারি পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন নাম বাদ গেল, তা নিয়ে হতবাক রজতবাবু। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “সন্দেহভাজন ভোটার ধরার পুরস্কার হিসেবে কমিশন আমার নামটাই বাদ দিয়ে দিল। এর প্রভাব আমার ভবিষ্যৎ ও পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর পড়বে।”
জেলায় জেলায় ক্ষোভ:
পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে রজতবাবুর মতো প্রায় ১৭,৯৮৪ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এ ছাড়াও জেলায় ৩,৫৩,৬০৮ জন ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে। কাটোয়া বিধানসভার ২৫৩ নম্বর বুথের গাঁফুলিয়া এলাকায় দীপিকা মাঝি, ভগবতী মাঝিদের মতো বেশ কয়েকজন ‘জীবিত’ ভোটারের নামও তালিকা থেকে উধাও। শুনানিতে হাজির থাকার পরেও নাম ডিলিট হওয়ায় সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারগুলি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই ইস্যু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। জেলা তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, “বেঁচে থাকা মানুষদের নাম কেন বাদ যাচ্ছে? এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই আমাদের দলনেত্রী কলকাতায় ধর্নায় বসেছেন।” তবে রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের পরিচয় হারানো সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা এখন চরমে।
