নয়াদিল্লি: শচীন তেন্ডুলকার প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভারতরত্ন পেয়েছেন। সুরেশ রায়না চান, বিরাট কোহলিকেও দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হোক। ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাটের যা অবদান, ভারতরত্ন প্রাপ্য। বিরাটের জন্য ফেয়ারওয়েল ম্যাচ আয়োজনের দাবিও তুললেন।
শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। একটা বলও খেলা সম্ভব হয়নি। কমেন্ট্রি বক্সে বসে বিরাটকে নিয়ে আলোচনার সময় রায়না এমনই চাঞ্চল্যকর পরামর্শ দেন। বলেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে অবদানের জন্য বিরাটকে অবশ্যই ভারতরত্ন দেওয়া উচিত।’
রায়নার মতে, বিরাট যে মাপের ক্রিকেটার, তাতে বিদায়ি টেস্টও প্রাপ্য। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের উচিত উদ্যোগী হওয়া। শচীন যেমন ঘরের নিজের শহর মুম্বইয়ে বিদায়ি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিরাটের জন্য তেমনই দিল্লিতে বিদায়ি ম্যাচের আয়োজন করা উচিত। ঘরের সমর্থক, গোটা পরিবারের সামনে বিদায়। এরচেয়ে ভালো মঞ্চ কী হতে পারে বিরাটের মতো খেলোয়াড়ের জন্য।
ইশান্ত শর্মা আবার বিরাটকে নিয়ে নতুন রহস্য ফাঁস করলেন। দিল্লি থেকে ভারতীয় দল-দীর্ঘদিনের সতীর্থ। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায় থেকে একসঙ্গে খেলেছেন। ইশান্তের মতে, বাকিদের কাছে বিরাট মহাতারকা হতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে নয়! বিরাট হল তাঁর ছোটবেলার বন্ধু, প্রিয় চিকু।
ইশান্ত বলেছেন, ‘দিল্লির হয়ে যখন অনূর্ধ্ব-১৯ খেলতাম, তখন রোজ টাকা গুনতাম, দেখতাম আমাদের কাছে কত আছে। খেলার পর দুজনে খেতে যেতাম। যাতায়াতের খরচ বাবদ যা পেতাম, তার থেকে বাঁচিয়ে রেখে খেতাম দুজনে। একসঙ্গে বড় হয়েছি। কোহলি তাই বাকিদের কাছে মহাতারকা হতে পারে, আমার কাছে নয়।’
নিজেকে যেভাবে গড়ে নিয়েছে বিরাট, তাতে গর্বিত বন্ধু ইশান্ত। ভারতের জার্সিতে শতাধিক টেস্ট খেলা ইশান্ত বলেন, ‘কীভাবে দুজনে এত টেস্ট খেললাম, তা নিয়ে কখনও আলোচনা করিনি আমরা। অন্য সবকিছু নিয়ে মজা করি। বন্ধুদের মধ্যে যা হয় আর কী। কখনও মনে হয় না ও বিরাট কোহলি। আমাদের কাছে চিরকাল ও চিকু। এভাবেই দেখি বিরাটকে। একভাবে আমাদের সঙ্গে মেলামেশা করে চিকুও।’
শুধু মনের কথা, খাবার নয়, বাইরে খেলতে গেলে রুম পার্টনার ছিলেন দুজনে। সেভাবেই জাতীয় দলে খেলার খবর বিরাটের থেকে পেয়েছিলেন ইশান্ত। বলেছেন, ‘যখন ভারতীয় দল ঘোষণা করা হয়, আমি ঘুমোচ্ছিলাম। কোহলি আমাকে লাথি মেরে ঘুম থেকে তুলে খবরটা দেয়। বলে, তুই ভারতের হয়ে খেলবি। ডাক পেয়েছিস। উত্তরে বলেছিলাম, এখন তো ঘুমোতে দে।’
