উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি লন্ডনে কিংফিশার কর্তা বিজয় মাল্যর (Vijay Mallya) জন্মদিনের পার্টিতে ললিত মোদিকে (Lalit Modi) একসঙ্গে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ভিডিওটিতে ললিত মোদী অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে নিজেকে এবং মাল্যকে ‘ভারতের সবচেয়ে বড় দুই পলাতক’ (Greatest Fugitives) বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
লন্ডনের সেই পার্টিতে ললিত মোদী হাসতে হাসতে বলেন, “আমরা দু’জন পলাতক, ভারতের সবচেয়ে বড় পলাতক।” শুধু ভিডিও নয়, ইনস্টাগ্রামে তা পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “আবার ইন্টারনেট ভাইরাল হওয়ার মতো কিছু করলাম। তোমরা না হয় ঈর্ষা নিয়ে দেখো।” এই মন্তব্যকে ভারতীয় আইন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) ও সিবিআইয়ের (CBI) প্রতি চরম বিদ্রুপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনেকে লিখেছেন, ‘ভারতীয় আইনব্যবস্থার লজ্জা যে এরা এভাবে হাসাহাসি করার সাহস পায়।’
এই বিতর্কের মধ্যে বিজয় মাল্যকে নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সশরীরে ভারতে না ফিরলে মাল্যর কোনও আবেদন শোনা হবে না। ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডারস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে করা আবেদনটি আদালত সরাসরি গ্রাহ্য করতে অস্বীকার করে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যতক্ষণ না তিনি ভারতীয় আদালতের কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর আইনি অধিকার সীমিত।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত ছেড়ে পালান বিজয় মাল্য। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক ঋণ খেলাপ ও আর্থিক তছরুপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, ২০১০ সাল থেকে পলাতক ললিত মোদী। আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব বণ্টন ও প্রায় ১২৫ কোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। লন্ডনের এই উদ্দাম উল্লাস ও বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য পুনরায় ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
