দুবাইঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার কথাই ছিল না তাঁর। প্রাথমিক স্কোয়াডেও ছিলেন না। একেবারে শেষ বেলায় ডাক পান। বাকিটা এখন ইতিহাস।
প্রতিযোগিতার সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেটারের তকমা পাওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপরও বরুণ চক্রবর্তী যেন একটু বেশি গুটিয়ে, আগামীর ভাবনায় ডুবে। শেষ রবিবারে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচেই প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন। দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট নিয়ে। পরে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দুই উইকেটের পর আজ ফাইনালেও বরুণের শিকার সংখ্যা দুই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তিন ম্যাচে মোট নয় উইকেট নিয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে তিনি।
গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচের মতো আজও কিউয়ি ব্যাটাররা বরুণের রহস্য স্পিন খেলতে সমস্যায় পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত ২৫১ রানে নিউজিল্যান্ড ইনিংস শেষ হওয়ার পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলে হাজির হয়ে বরুণ ফাঁস করেছেন তাঁর সাফল্যের রহস্য। বলেছেন, ‘আলাদা কোনও রহস্য নেই। নিজের শক্তি অনুযায়ী লাইন লেংথ বজায় রেখে বল করেছি। এভাবেই সাফল্য।’ কুলদীপ যাদবের সঙ্গে জুটি জমে গিয়েছে বরুণের। সেই জুটি যে তিনিও উপভোগ করছেন, জানিয়েছেন রহস্য স্পিনার বরুণ। একইসঙ্গে বলেছেন, ‘শুরুর পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে বোলিং করাটা উপভোগ করি আমি। বলতে পারেন, এই চ্যালেঞ্জ নেওয়াটা অনেকদিনই আমার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।’ দুবাইয়ের মাঠে জাতীয় দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুটি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে বরুণের। সেই দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের পিচটা তাঁর অন্যরকম বলে মনে হয়েছে। যেখানে বল কম টার্ন করেছে। কিন্তু তারপরও কিউয়ি ব্যাটাররা বরুণ রহস্য ভেদ করতে পারেননি।
বরুণ যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেটার হয়ে থাকেন, তাহলে নিউজিল্যান্ডের জোরে বোলার ম্যাট হেনরিকে খুব একটা পিছিয়ে রাখা যাবে না। মোট দশ উইকেট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বাধিক উইকেট শিকারি তিনি। অথচ, কাঁধের চোটের কারণে আজ ফাইনাল ম্যাচটাই খেলা হল না তাঁর। টসের আগে মাঠের ধারে হেনরির ফিটনেস পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
আসলে ক্রিকেট এমনই। জীবন যেমন বদলে দেয়। তেমনই কখনও হতাশায় ডুবিয়েও দেয়।
