শিলিগুড়ি: সান্দাকফু (Sandakfu) বেড়াতে গিয়ে ফের এক পর্যটকের মৃত্যু হল। মৃতার নাম অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় (৭২)। তিনি কলকাতার যাদবপুরের বাসিন্দা৷ সোমবার বিকেলে এই ঘটনাটি হয়েছে। সান্দাকফুর মতো উচ্চতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যটকদের (Tourist) কেন শারীরিক পরীক্ষা বা বয়স বিবেচনা করা হয় না এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান জানিয়েছেন, অনিন্দিতার দেহ কলকাতায় পাঠানোর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও জিটিএ সুত্রে জানা গিয়েছে, তিন থেকে চারদিন আগে যাদবপুরের বাসিন্দা দুই বোন অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় এবং অজন্তা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিং বেড়াতে আসেন। তাঁরা দু’জনই প্রবীন নাগরিক। সোমবার দুপুরে তাঁরা সান্দাকফু ঘুরতে যান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই অনিন্দিতা অসুস্থতা বোধ করেন। খবর পেয়ে মানেভঞ্জন ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অনিন্দিতার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তারপরও শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাঁকে সুখিয়াপোখরি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা অনিন্দিতাকে মৃত বলে জানান। ওইদিনই সন্ধ্যায় মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দার্জিলিং সদর হাসপাতালে (HOSPITAL) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগেও পর্যটকরা একাধিকবার সান্দাকফুতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছেন। এমনকি অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সান্দাকফুতে কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। এছাড়াও কোন পর্যটকদের সান্দাকফুর মতো উচ্চতায় যাওয়া উচিত বা কাদের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ সেই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও নির্দেশিকা ও নজরদারি নেই। ফলে মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা হচ্ছে।
তবে জিটিএর ভাইস চেয়ারম্যানের দাবি, চলতি বছরে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। ২০২৪ সালে সান্দাকফুতে গিয়ে চারজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এই ধরনের ঘটনা হলে মোকাবিলার জন্য জিটিএ এবং জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
