উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে শান্তি স্থাপনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা যেন ফের এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে আমেরিকা এবং ইরানের (US-Iran peace talks) মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা ছিল, তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের (JD Vance) সুইৎজারল্যান্ড সফর বাতিল হওয়ার ঘোষণায় কূটনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কবে এই বৈঠক ফের হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষই এখন নীরব।
গত রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতার বার্তা মিলেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছিলেন, শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এই সমঝোতা স্মারকলিপিকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। আমেরিকাও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পণ্যের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরেও কেন এই বৈঠক ভেস্তে গেল, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের সংক্ষিপ্ত বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘এই সমঝোতা প্রক্রিয়া কখনওই সহজ ছিল না, অনিশ্চয়তা ছিল প্রথম থেকেই।’’ অন্যদিকে, সুইস বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষই পিছু হটেছে। ইরান অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, আমেরিকা চুক্তির শর্ত বাস্তবে কতখানি পালন করছে, তা দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল। একদিকে শান্তি চুক্তির আলোচনা, অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লার সঙ্গে ইজরায়েলি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। শান্তি আলোচনার এই নাটকীয় স্থগিতাদেশ কি তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল? জেডি ভান্সের সফর বাতিল এবং পরবর্তী তারিখ ঘোষণার অনিচ্ছায় স্পষ্ট যে, আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের চিড় ধরা বিশ্বাসযোগ্যতা আবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

