উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ওই অঞ্চলে নতুন করে ৩,৫০০-এরও বেশি সেনা মোতায়েন (US troops) করেছে আমেরিকা (US-Iran Battle)। পেন্টাগন সূত্রে খবর, প্রয়োজনে ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের (Floor Ops) প্রস্তুতিও সেরে রাখছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত স্থল সেনা অভিযানে সবুজ সংকেত দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ (F-35 stealth fighter jets) এবং ‘অসপ্রে’ বহনে সক্ষম রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (USS Tripoli) ইতিপূর্বেই তার অপারেশনাল জোনে পৌঁছে গিয়েছে। এই জাহাজে প্রায় ২,৫০০ নৌসেনা রয়েছে। এর পাশাপাশি সান ডিয়েগো থেকে ‘ইউএসএস বক্সার’ (USS Boxer) সহ আরও বেশ কিছু নৌ-ইউনিটকে দ্রুত ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অধীনে মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত ইরানের প্রায় ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মী আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। এর ওপর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে।
এই যুদ্ধে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আগমন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইজরায়েলে মিসাইল হামলা চালানোর পাশাপাশি হুথিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও হুমকি তৈরি করছে। ফলে সুয়েজ খালগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা শান্তি ফেরাতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ একটি যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। উলটে তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন স্থল সেনা না নামিয়েই লক্ষ্যপূরণ করতে চায়, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবরকম বিকল্প খোলা রাখছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড়সড়ো অশনি সংকেত বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
