উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ম্যাচ শুরুর তিন দিন আগেই কোচ প্রকাশ পাটানিকে কথা দিয়েছিলেন, ‘ধামাকা’ করবেন। কথা রাখলেন উর্বিল প্যাটেল (Urvil Patel quickest fifty)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলারদের ক্লাব স্তরে নামিয়ে এনে মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করলেন তিনি। প্রথম বলে সিঙ্গল নেওয়ার পর পরবর্তী ৮ বলে মারলেন ৬টি ছক্কা। ইনিংসের প্রথম ৮ বলে ৪১ রান করার নজির আইপিএলের ইতিহাসে আর কারও নেই।
উর্বিলের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের নেপথ্যে রয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির একটি বিশেষ পরামর্শ ও উপহার। এই সিজনের আগে ধোনি তাঁকে একটি ভারী বটম হ্যান্ডের ব্যাট দিয়েছিলেন। শুরুতে উর্বিল অস্বস্তি বোধ করলেও মাহি তাঁকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, “এটা বড় ছক্কা মারতে সাহায্য করবে।” সেই কাস্টমাইজড ব্যাট দিয়েই কাল আবেশ খান, দিগ্বেশ রাঠি ও মহম্মদ সামিদের গ্যালারিতে পাঠালেন উর্বিল। ধোনির টিপস ছিল পরিষ্কার— “নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলো।”
এই সাফল্য হঠাৎ আসেনি। আইপিএলের আগে গুজরাতের পালানপুরে পিসিসিসি অ্যাকাডেমিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন উর্বিল। কোচ প্রকাশ পাটানি জানিয়েছেন:
রুটিন: প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত চলত অনুশীলন। বোলিং মেশিনের বদলে ‘রোবো আর্ম’ দিয়ে কোকাবুরা বলে থ্রোডাউন নিতেন তিনি।
ছক্কার প্রস্তুতি: প্রতিদিন গুনে গুনে ২০০টি ছক্কা মারার প্র্যাকটিস করতেন উর্বিল। এই অবিশ্বাস্য পরিশ্রমই তাঁকে এলিট ক্লাবে পৌঁছে দিয়েছে।
- টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উর্বিলের পরিসংখ্যান চোখ কপালে তোলার মতো। এখনও পর্যন্ত ৮৪১ বলে ৯০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ প্রতি ৯.৩৪ বলে একটি করে ছক্কা মারেন উর্বিল, যা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, সূর্যকুমার যাদব কিংবা রোহিত শর্মাদের থেকেও ভালো স্ট্রাইক রেট। উল্লেখ্য, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে মাত্র ২৮ বলে শতরান করার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর দখলে।২০২৩ সালে গুজরাত টাইটান্স তাঁকে কিনলেও একটি ম্যাচেও সুযোগ দেয়নি। ২০২৫-এর নিলামে তিনি ছিলেন অবিক্রীত। বদলি ক্রিকেটার হিসেবে উর্বিলকে দলে নিয়ে চেন্নাই সুপার কিংস যে বড়সড় বাজি জিতেছে, তা এখন স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে মাঠেই বাবার জন্য একটি চিরকুট লিখে নিজের এই রেকর্ড উৎসর্গ করেছেন এই তরুণ তারকা
চিপকের গ্যালারি যখন ‘উর্বিল… উর্বিল…’ চিৎকারে ফেটে পড়ছে, তখন প্যাভিলিয়নে বসে মিটিমিটি হাসছিলেন মাহি। চেন্নাইয়ের পরবর্তী ফিনিশার কি তবে তৈরি? উত্তরটা উর্বিলের ব্যাটই দিয়ে দিচ্ছে।
