কিশনগঞ্জ: বাবার চিতাভস্ম তখনও হয়তো ঠান্ডা হয়নি, শোকের ছায়া কাটেনি বাড়িতে। ঠিক সেই সময় দিল্লির ইউপিএসসি (UPSC) বোর্ড থেকে এসেছিল ডাক। চোখের জল মুছে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন কিশনগঞ্জের খাগড়া এলাকার বাসিন্দা জুহি দাস (Juhi Das)। শুক্রবার সিভিল সার্ভিসের ফলাফল (UPSC Outcomes 2026) বেরোতেই দেখা গেল, ৬৪৯ র্যাঙ্ক করে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়েছেন তিনি। বাবার মৃত্যুর ঠিক ২১ দিনের মাথায় পাওয়া এই সাফল্য যেন এক বিষাদমাখা উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছে জুহির বাড়িতে।
জুহি দাস পশ্চিমবঙ্গের টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক করেছেন। বিটেক শেষ করার পরেই তিনি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করেন। এটি ছিল তাঁর তৃতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে দু’বার ইন্টারভিউ দিলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠেনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। মা অগ্নিকা দাস জানান, জুহি দিল্লিতে একা যেতে না পারায় এক আত্মীয়ের সঙ্গে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা তাঁর কাছে ছিল অগ্নিপরীক্ষা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জুহির বাবা নিবারণ দাসের প্রয়াণ ঘটে। নিবারণ বাবুর স্বপ্ন ছিল তাঁর মেয়ে একদিন জেলাশাসক (DM) হয়ে দেশসেবা করবে। জুহি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে বসার সময় মনে হচ্ছিল বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে সাহস দিচ্ছেন। এই সাফল্য আমি আমার স্বর্গীয় বাবাকেই উৎসর্গ করছি।”
মা ও মেয়ের এই লড়াইয়ে আজ শামিল গোটা পাড়া-প্রতিবেশী। এক লড়াকু মেয়ের হার না মানা মানসিকতা আজ কিশনগঞ্জের প্রতিটি ঘরের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
