উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: এবার হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (UAE Tanker Assault) চালাল ইরান (Iran)। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে (Indian sailor killed) এবং আরও আটজন ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃত নাবিক ‘মোম্বাসা’ ট্যাংকারের কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের দাবি, ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামক ওই দুটি ট্যাংকার বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির অভিযোগ, জাহাজগুলি তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে ‘মাইনযুক্ত’ একটি বিপজ্জনক পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তেহরানের দাবি, আমেরিকার প্ররোচনাতেই এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলি ওই ‘অবৈধ পথ’ ব্যবহার করেছে। ইরান সাফ জানিয়েছে, ‘আগ্রাসী শত্রুর’ সঙ্গে সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে এমন আরও পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, এই হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা এই উত্তেজনার সমুচিত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করেছেন। পাশাপাশি, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং এই জলপথ ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছে সুরক্ষার জন্য ২০ শতাংশ মাশুল দাবি করেছে।
সোমবার রাত থেকেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলিতে লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায়, এই উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

