উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকের পর নাটক। এবার সুপারস্টার বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-র (TVK Allegation Controversy) বিরুদ্ধে ‘জাল’ সমর্থনপত্র পেশ করার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ল থানায়। এএমএমকে (AMMK)-র দাবি, সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালের কাছে বিজয় যে সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এখন প্রবল শোরগোল।
এএমএমকে-র বিধায়ক এস কামরাজের সমর্থন ঘিরেই যত বিবাদ। দলের সাধারণ সম্পাদক টিটিভি ধিনাকরণ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, কামরাজের সই করা নকল চিঠি দেখিয়ে বিজয় রাজ্যপালের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও পাল্টা চালে বিজয়ের দল একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছে যে, কামরাজ স্বেচ্ছায় টিভিকে-কে সমর্থন দিচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতির মোড় ঘোরে তখন, যখন কামরাজকে খোদ রাজভবনে এআইএডিএমকে-র (AIADMK) পাশে দাঁড়িয়ে সরকার গড়ার দাবি জানাতে দেখা যায়। এই রহস্যময় ভোলবদল বিজয়ের দলের জন্য বড় অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বিজয় শিবিরকে রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে পুরনো দুই শত্রু— ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে। সূত্রের খবর, দ্রাবিড় রাজনীতির আধিপত্য বজায় রাখতে এই দুই দল তলে তলে হাত মেলাচ্ছে। এর ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’। ঘোড়া কেনাবেচা রুখতে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের পাঁচ বিধায়ককে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরুতে। শুক্রবার রাতেই তাঁরা কর্ণাটকের রাজধানীতে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছেন।
বিজয় কি পারবেন এই আইনি গেরো আর জোটের রাজনীতি সামলে সরকার গড়তে? নাকি জালিয়াতির অভিযোগ তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় দাগ ফেলে দেবে? চেন্নাইয়ের রাজপথ এখন কেবল এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার এখন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ।
