উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মাঝআকাশে প্রবল ঝড় ও তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের (Turkish Airways TK 661 Turbulence)। ইস্তানবুল থেকে তিউনিসিয়াগামী টার্কিশ এয়ারলাইন্স (Turkish Airways)-এর একটি বিমানে এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়। ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে পরপর তিনবার বিমানটি নামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় কেবিনের মধ্যে কান্নাকাটি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। যাত্রীদের অনেকেরই মুখে তখন একটাই আতঙ্কিত আর্তনাদ—‘এ বার আমরা মরে যাব…’। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার একটি ভিউও ভাইরাল হতেই তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি গত ১০ সেপ্টেম্বরের। ইস্তানবুল থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ‘TK 661’ ফ্লাইটটি তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসের কার্থেজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের (Tunis-Carthage Worldwide Airport) উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। যাত্রার শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও, বিমানটি তিউনিসের কাছাকাছি পৌঁছাতেই আবহাওয়া হঠাৎ মারাত্মকভাবে খারাপ হতে শুরু করে। অবতরণের ঠিক আগে প্রবল ঝড় ও টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে বিমানটি।
পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পাইলটরা প্রথম ও দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তা ব্যর্থ হয়। তৃতীয়বার নামার চেষ্টার সময়ে বিমানটি আচমকাই নীচের দিকে নামতে শুরু করে (Free-fall)। বিমানের এক যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও শেয়ার করে জানান, প্রবল ঝাঁকুনিতে সিট আঁকড়ে ধরে বসেছিলেন আতঙ্কিত যাত্রীরা। অনেকেই হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। মাইস্কায়ার কথায়, “এত ভয় আমি জীবনে পাইনি। মনে হচ্ছিল বিমানটি যেন মুহূর্তের জন্য ফ্রি-ফলের কবলে পড়েছে।”
তমারীনা ও তাঁর মায়ের মতো সমস্ত যাত্রীর কাছেই ওই অভিজ্ঞতা ছিল জীবনের অন্যতম ভয়ংকর মুহূর্ত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিউনিস-কার্থেজ বিমানবন্দরে নামার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন পাইলটরা। শেষ পর্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে বিমানটিকে তিউনিসের দক্ষিণে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এনফিদা-হাম্মামেট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (Enfidha-Hammamet Worldwide Airport)-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। বিমানটি মাটিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তিতে ফেটে পড়েন যাত্রীরা এবং পাইলটদের দক্ষতার প্রশংসায় হাততালি দিতে শুরু করেন। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের আহত হওয়ার কোনো খবর মেলেনি।

