রায়গঞ্জ: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের উজ্জ্বল বাংলার নাম। রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations Recognition) খাদ্য ও কৃষি সংগঠন (FAO) এরাজ্যের তিনটি সুগন্ধি চাল তুলাইপাঞ্জি (Tulaipanji Rice), গোবিন্দভোগ এবং কনকচূড়কে খাদ্য-সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ তকমা দিয়েছে। এই স্বীকৃতির খবর আসতেই উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষক মহলে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তুলাইপাঞ্জি চাল, যার আদি নিবাস ও প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্র এই জেলা, তার এই বিশ্বজয়ে গর্বিত স্থানীয় চাষিরা।
উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur) জেলার তুলাইপাঞ্জি তার নিজস্ব সুগন্ধের জন্য বিশ্বখ্যাত। বর্তমানে বাজারে এই চালের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১৮০ টাকা। করনদীঘি ব্লকের অভিজ্ঞ চাষি শ্যাম লালা জানান, প্রতি বিঘায় প্রায় আট মণ ফলন হয় এবং সারা বছর তাঁরা প্রচুর পরিশ্রম করে এই উৎকৃষ্ট চাল উৎপাদন করেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্বীকৃতিতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর মতে, শিলিগুড়ির জৈব হাটেও এই চালের বিশাল চাহিদা রয়েছে।
টুঙ্গিদীঘির কৃষক ফাগুলাল সিংহ বলেন, “আগে জিআই (GI) তকমা পেয়েছিল তুলাইপাঞ্জি, এবার খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জ একে স্বীকৃতি দিল। চাষি হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।”
উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দারা প্রতি বছর ভিনরাজ্য বা বিদেশে থাকা আত্মীয়দের কাছে অন্তত একবার এই চাল উপহার হিসেবে পাঠান। বাঁকুড়া ও বীরভূমে উৎপাদিত গোবিন্দভোগের পাশাপাশি এই জেলার তুলাইপাঞ্জি এখন আন্তর্জাতিক হেরিটেজের অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলার এই সুগন্ধি চালের রপ্তানি ও চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
