তুফানগঞ্জ: আন্তঃরাজ্য সীমানায় পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া গোরু-মোষ নিয়ে রীতিমতো ফাঁপরে পড়েছেন তুফানগঞ্জের খোঁয়াড় মালিকরা। একসময় পাচারের গোরু-মোষকে আইনি বৈধতা দিতে পশু কেনাবেচার হাটকে ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করত পাচারকারীরা। পুরোনো রসিদের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে আদালতের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত পশু আবার পৌঁছে যেত পাচারচক্রের হাতেই। উপরন্তু খোঁয়াড়ে যতদিন পশু থাকত, তার খোরাকির খরচও নিয়মমাফিক পেয়ে যেতেন খোঁয়াড় মালিকরা।
রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে অবৈধ পশু কেনাবেচার হাট বন্ধে প্রশাসন কড়াকড়ি করতেই পাচারকারীদের সেই কৌশল আর কাজে আসছে না। এদিকে, বাজেয়াপ্ত করা গোরু-মোষের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে যাওয়ায় ফাঁপরে পড়ছেন খোঁয়াড় মালিকরা। দিনের পর দিন সেই গোরু, মোষের খাওয়ার, চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম অবস্থা খোঁয়াড় মালিকদের। গরমে অসুস্থ হয়ে একাধিক গোরু, মোষের মৃত্যুও হচ্ছে। ফলে অবোলা প্রাণীদের এই দুর্দশা ঘোচাতে সেই বাজেয়াপ্ত করা পশুগুলিকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দেওয়া হোক, এমনটাই দাবি তুলছেন পশুপ্রেমীরা।
সরকারি নির্দেশে পশু কেনাবেচার হাট বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের সামান্য সমস্যা হলেও আন্তঃরাজ্য গোরু, মোষ পাচার বন্ধে অনেকটাই সঠিক পদক্ষেপ করেছে সরকার বলেই মনে করছেন সচেতন বাসিন্দারা।
বছরের পর বছর ধরে পাচারকারীরা অত্যন্ত কৌশলে আইনের ফাঁক গলিয়ে পুলিশি ধরপাকড়ে উদ্ধার হওয়া গোরু, মোষ ফের নিজেদের দখলে নিয়ে যেত। কোচবিহার জেলার অসম-বাংলা সীমানাবর্তী ভাঙ্গাপাকড়ি এবং জোড়াই মোড় নাকা চেকিং পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি চালায় বক্সিরহাট থানার পুলিশ। বিভিন্ন সময় পণ্যবাহী লরি থেকে উদ্ধার হয় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া গোরু ও মোষ। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত পশুগুলিকে রাখা হয় সরকারি অনুমোদিত খোঁয়াড়ে।
রাতারাতি অসাধু কারবারিরা পাচারের ব্যবহৃত গোরু, মোষকে বৈধ তকমা দিতে স্থানীয় পশু কেনাবেচার হাট থেকে পুরোনো রসিদ জোগাড় করে আদালতে মালিকানা দাবি করত। সরকারি পশু কেনাবেচার রসিদ থাকায় আইনি ফাঁক গলিয়ে আদালত সেই বাজেয়াপ্ত করা পশু ফেরতের নির্দেশ দিত। বাজেয়াপ্ত পশু ফেরত পাওয়ার পর সেগুলি আবার পাচারচক্রের হাতেই পৌঁছে যেত। অবৈধ পাচারকারীদের শায়েস্তা করতে সম্প্রতি সরকারি নির্দেশ জারি করে অবৈধ গোরু, মোষ কেনাবেচার হাট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে এখন আর সহজে পশুহাটের রসিদ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি পশুহাট বন্ধ থাকায় সেই গোরু অথবা মোষের চাহিদাও একেবারে তলানিতে। আর সেই কারণেই পুলিশি ধরপাকড়ে উদ্ধার হওয়া গোরু, মোষের দাবিদার হিসেবে আদালতে আর আবেদনও করছেন না কেউ।
ফলে, বাজেয়াপ্ত করা গোরু ও মোষের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে যাওয়ায় ফাঁপরে পড়ছেন খোঁয়াড় মালিকরা। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যের ব্যবস্থা করা যেমন কঠিন হয়ে উঠেছে, তেমনই গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বহু পশু। ইতিমধ্যেই একাধিক গোরুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘেটছে।
তুফানগঞ্জের খোঁয়াড় মালিক আশরাফুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পশুগুলি খোঁয়াড়ে থাকলেও সেগুলি মালিকানা কেউ দাবি করছে না। পশুহাট বন্ধ থাকায় গোরু, মোষ কেনার কেউ নেই। এই অবস্থায় প্রতিদিন সেই পশুদের খাবার, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে চরম আর্থিক সমস্যায় ভুগছি।’ তুফানগঞ্জের পশুপ্রেমী মিঠুন সাহার কথায়, ‘পশুগুলির প্রকৃত আবাসস্থলের তাপমাত্রার সঙ্গে আমাদের তাপমাত্রা অনেকটাই ফারাক। ফলে দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও কেউ ছাড়াতে না আসায় পশুগুলি অসুস্থ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। আমরা চাইছি অবোলা প্রাণীদের বাঁচাতে অবিলম্বে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আছে সেগুলি তুলে দেওয়া হোক।’
The put up Tufanganj | গোরু–মোষ উদ্ধারে বিপাকে খোঁয়াড় মালিকরা appeared first on Uttarbanga Sambad.
