উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার নতুন করে দানা বাঁধল ‘মাইন’ আতঙ্ক। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ইরান মাইন পুঁতে রাখছে— এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই তেহরানকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump warns Iran)। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি এমন কোনো পদক্ষেপ করে থাকে, তবে তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি কোনো মাইন পুঁতে থাকে, তবে অবিলম্বে তা সরিয়ে নিক!” তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো কারণে সেখানে মাইন পোঁতা হয়ে থাকে, তবে ইরানের সামরিক পরিণতি এমন পর্যায়ে যাবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। মাইন সরিয়ে নেওয়াই তেহরানের জন্য ‘সঠিক পদক্ষেপ’ হবে বলে নিদান দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি, মাদক পাচারকারীদের দমনে যে ধরনের বিধ্বংসী প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, ইরানকেও সেই একই ধরনের বড়সড়ো সামরিক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট ও সেন্ট্রাল কমান্ডের ভূমিকা
মার্কিন সংবাদমাধ্যম-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচলের পথে ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন মাইন পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই খবর জানানো হলেও, সরাসরি ইরানের নাম নেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইতিমধ্যেই সমুদ্রপথ থেকে মাইন সরানোর কাজ শুরু করেছে। যদিও এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত তেহরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী?
বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এর একদিকে ওমান এবং অন্যদিকে ইরান। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের আবহে ইরান দাবি করেছে, তারা এই প্রণালীর ‘পুরো দখল’ নিয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) সাফ জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা জারি থাকলে এই পথ দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই উত্তেজনার মাঝেই মাইন পোঁতার খবর বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
