উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আধিপত্য এবং চিনের সঙ্গে কানাডার ঘনিষ্ঠতা— জোড়া ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশকে তুলোধনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নেকে কার্যত সতর্ক করে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী, আমেরিকার বিরোধিতা করে চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর ফল ভুগতে হবে তাদের (Trump warns Canada)। তাঁর দাবি, বেজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে ‘খেয়ে ফেলবে’ চিন।
গোল্ডেন ডোম বিতর্ক: বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ (The Golden Dome)। ট্রাম্প প্রশাসন নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে চায়। ট্রাম্পের যুক্তি, এই ‘ডোম’ বা সুরক্ষা কবচ শুধুমাত্র আমেরিকাকেই নয়, কানাডাকেও নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে (Mark Carney) এই মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। কার্নে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার দখলদারি অনভিপ্রেত এবং কানাডা এর ঘোর বিরোধী।
চিন-কানাডা সমীকরণ ও ট্রাম্পের তোপ: মার্কিন ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চিন সফর। আমেরিকার পর চিনের সঙ্গেই কানাডার সবথেকে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং শুল্ক কমাতে বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কার্নে। বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “কানাডা গোল্ডেন ডোমের বিরোধিতা করছে, অথচ চিনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভোট দিচ্ছে। চিন তো ওদের প্রথম বছরের মধ্যেই খেয়ে ফেলবে!”
দাভোসের বাগযুদ্ধ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসেও এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে ওঠে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, আমেরিকার জন্যই কানাডা টিকে আছে। এর কড়া জবাবে কার্নে বলেছিলেন, “কানাডা আমেরিকার জন্য বেঁচে নেই। কানাডিয়ানদের পরিশ্রমেই এই দেশ সমৃদ্ধ। এটা আমাদের দেশ, আমাদের ভবিষ্যৎ। সিদ্ধান্ত আমরাই নেব।” এই সংঘাতের আবহে শুক্রবারই ‘বোর্ড অফ পিস’-এ কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। সব মিলিয়ে, দুই পড়শি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন তলানিতে।
