আসানসোল: মঙ্গলবার সকালে আসানসোল (Asansol) উত্তর থানার কন্যাপুর পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত পাঁচগাছিয়ার রায় ময়দান থেকে এক আদিবাসী যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হলো (Tribal Youth Loss of life)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম বিষ্ণু হেমব্রম (২৫), তিনি পাঁচগাছিয়ার কাপটিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই যুবকের মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল উত্তর থানা ও কন্যাপুর ফাঁড়ির পুলিশ (Police)। পরে তদন্তে আসেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদেহের পাশ থেকে একটি মদের বোতল এবং কয়েকটি প্লাস্টিকের গ্লাস উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান, সোমবার রাতে বিষ্ণু ও তাঁর সঙ্গীরা ওই ময়দানে মদ্যপান করছিলেন। মত্ত অবস্থায় কোনও কারণে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়, যার জেরে বিষ্ণুকে খুন করা হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে বিষ্ণুর মোবাইল ফোনটি উধাও, যা তদন্তে বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
বিষ্ণুর পরিবারের দাবি, সোমবার সকালে তিনি কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু মোবাইল সুইচড অফ ছিল। মঙ্গলবার সকালে রায় ময়দানে তাঁর দেহ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। স্বজনদের দাবি, বিষ্ণুর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁরা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পাঁচগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ফাঁকা ময়দান হওয়ায় রাতে এখানে বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে। পুলিশকে এই এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে (Asansol Hospital) ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে খুনের মামলা রুজু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং নিখোঁজ মোবাইলের হদিশ পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
