রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্যোগের কারণে এখনও পর্ষন্ত পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই বিরাট দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন পরিষেবায় (Toy Practice Service)। বিপর্যয়ের জেরে কার্সিয়াং পাহাড়ের একাধিক এলাকায় ধস নামায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টয়ট্রেন পরিষেবা।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তিনধারিয়া থেকে কার্সিয়াং পর্যন্ত একাধিক জায়গায় টয়ট্রেনের লাইনে ধস নেমেছে। একাধিক জায়গায় টয়ট্রেনের লাইনের নীচে থেকে সরে গিয়েছে মাটি। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকাল থেকেই এনজেপি থেকে দার্জিলিং এবং দার্জিলিং থেকে এনজেপিগামী টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর কথায়, ‘একাধিক জায়গায় লাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইন মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। তবে কতদিন সময় লাগবে এখনই সেই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে কাজ করছি। সেকারণে এনজেপি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আপাতত দার্জিলিং (Darjeeling) থেকে ঘুম এবং এনজেপি থেকে রংটং পর্যন্ত জয়রাইড চালু রয়েছে।’
মিরিক থেকে রোহিণী, কার্সিয়াং ধসে বিপর্যস্ত। কার্সিয়াংয়ে চার থেকে পাঁচ জায়গায় টয়ট্রেনের লাইনের ওপর ধস নেমেছে। কোথাও আবার লাইনের নীচে মাটি সরে গিয়ে লাইন শূন্যে ঝুলছে। এদিন সকালে খবর পেয়েই কার্সিয়াংয়ে ডিএইচআর সদর দপ্তর থেকে আধিকারিকরা ধসকবলিত এলাকায় পৌঁছান। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার পরেই ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়। এরপরেই ডিএইচআরের কর্মীরা লাইন থেকে ধস সরানোর কাজ শুরু করে। রবিবার দিনভর কাজ করা হলেও এখনও সব জায়গা থেকে ধস সরানো যায়নি। এদিকে, রবিবার রাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আবারও ধস নামার আশঙ্কা থাকছে।
অন্যদিকে, ১৯২৫ সালে মহাত্মা গান্ধির টয়ট্রেনে চেপে দার্জিলিংয়ে পদার্পণের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রবিবার থেকে শতাব্দী মার্চ শুরু করার কথা ছিল ডিএইচআরের। তবে দুর্যোগের জেরে এই পদযাত্রাও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। পরের সপ্তাহে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই পদযাত্রা শুরু করা হবে বলে ডিএইচআরের তরফে জানানো হয়েছে।
