Tourism Circuit | ডুয়ার্সে পর্যটনের মেগা ধামাকা: আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার মিলিয়ে তৈরি হবে নতুন ‘ট্যুরিস্ট সার্কিট’!

Tourism Circuit | ডুয়ার্সে পর্যটনের মেগা ধামাকা: আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার মিলিয়ে তৈরি হবে নতুন ‘ট্যুরিস্ট সার্কিট’!

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শামুকতলা: উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় ও দীর্ঘমেয়াদী করতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার এবং সংলগ্ন কোচবিহার জেলার একাধিক দর্শনীয় স্থানকে এক সুতোয় গেঁথে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পর্যটন সার্কিট’ (Tourism Circuit) গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে রাজ্য সরকার। রবিবার বিকেলে আলিপুরদুয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সিকিয়াঝোরা পরিদর্শনে এসে বনমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। সরকারের লক্ষ্য—বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে আলিপুরদুয়ারে পা রেখে অন্তত চার দিন কাটান এবং এই দুই জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

বনমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান রাজ্য সরকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ জোর দিচ্ছে। সিকিয়াঝোরার মতো অফবিট ও বিপুল সম্ভাবনাময় ছোট ছোট পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নই এখন মূল লক্ষ্য।

  • চা ও পর্যটনের মেলবন্ধন: মন্ত্রীর কথায়, আলিপুরদুয়ারের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে পর্যটন এবং চা শিল্পের ওপর। তাই এই দুটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মিলিয়ে জেলার পর্যটনের বিকাশ ঘটানো হবে। এই বিষয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীও ভীষণ উৎসাহী এবং পর্যটন দপ্তরের সবরকম সাহায্য ও পরামর্শ পাওয়া যাবে।
  • ত্রিমুখী বৈঠক: খুব শীঘ্রই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশপ্রেমী এবং বনদপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে এই সার্কিটের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।

এদিন সিকিয়াঝোরায় বনমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মন্ত্রী নিজে লাইফ জ্যাকেট পরে সিকিয়াঝোরার বুক চিরে নৌকাবিহার (Boating) করেন এবং পরিবেশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

এই পরিদর্শনের মাঝেই এলাকার বাসিন্দা গোপাল দাস, সঞ্জিৎ রায়, ধ্রুব শিকদার এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য মরিয়ম কিসকু ও গিরো বর্মনরা মন্ত্রীর কাছে সিকিয়াঝোরার পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. যাতায়াতের রাস্তার দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন। ২. পর্যটকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা। ৩. বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য নতুন ‘ওয়াচ টাওয়ার’ নির্মাণ। ৪. পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি। ৫. নৌকাবিহারের জন্য পুরনো নৌকাগুলোর সংস্কার এবং নতুন বোটের ব্যবস্থা করা।

এদিনের এই হাই-প্রোফাইল সফরে বনমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের বিডিও সন্দীপ ঘোষ, পুলিশ প্রশাসন ও বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সিকিয়াঝোরাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণায় ডুয়ার্সবাসীর মনে নতুন আশার আলো জেগেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য মরিয়ম কিসকু জানান, সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু যে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে তা-ই নয়, স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীদের বড় মাত্রায় কর্মসংস্থান হবে এবং সামগ্রিকভাবে এলাকার আর্থ-সামাজিক চেহারাটাই বদলে যাবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *