Tollywood Information | মিটিংয়েও কাটল না জট ! পিয়া-শতদীপ দ্বন্দ্বে উত্তাল টলিপাড়া

Tollywood Information | মিটিংয়েও কাটল না জট ! পিয়া-শতদীপ দ্বন্দ্বে উত্তাল টলিপাড়া

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক:  দীর্ঘক্ষণ বৈঠক চলল, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলো, কিন্তু কাটল না জট। শুক্রবার ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ‘ইম্পা’ (EIMPA)-র অফিসে আয়োজিত বৈঠক কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর (Piya Sengupta) পদত্যাগের দাবিতে অনড় প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পিয়া। সব মিলিয়ে টলিউডের অন্দরে সংঘাতের আবহ এখন চরমে।

রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পর থেকেই টলিউডের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। শুক্রবার সেই অসন্তোষই প্রকাশ্যে আসে। ডিস্ট্রিবিউটার শতদীপ সাহার (Satadeep Saha) নেতৃত্বে একদল প্রযোজক ও পরিবেশক পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, পিয়া সেনগুপ্ত স্বপদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত। শতদীপের দাবি, এদিনের বৈঠকে একসময় পিয়া পদত্যাগ করতে রাজি হলেও পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পিয়া সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, “তথ্যপ্রমাণ দিতে পারলে আমি এখনই পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে দিনের পর দিন মানসিক চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। ইম্পার বর্তমান কমিটিকে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি সরব হন। পিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আদালত যদি আমাদের অবৈধ বলে ঘোষণা করে, তবেই আমি পদ ছেড়ে দেব। আমরা খুব দ্রুত আইনের দ্বারস্থ হচ্ছি।”

বৈঠকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিনেতা বনি সেনগুপ্তও। ইম্পার নির্বাচিত সদস্য না হয়েও তিনি কীভাবে সমস্ত মিটিংয়ে উপস্থিত থাকছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। যদিও বনি এই অভিযোগ নসাৎ করে দাবি করেছেন যে, তিনি ইম্পার একজন বৈধ ইলেক্টেড মেম্বার এবং তাঁর কাছে এর যথাযথ প্রমাণ রয়েছে।

বিতর্ক আরও দানা বাঁধে পরিচালক জয়ব্রত দাসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবিটির মুক্তির সময় ইম্পার পক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে ইম্পা কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো টেকনিশিয়ান ছাড়াই শুটিং করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী ওই টাকা চাওয়া হয়েছিল। শতদীপ সাহার মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত ফেডারেশনকে ১২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর ছবিটি মুক্তি পায়।

টলিউডে ছবি মুক্তির ক্যালেন্ডার এবং স্ক্রিনিং কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনার দাবি থাকলেও, এদিনের বৈঠকে মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি। আগামী দিনে স্ক্রিনিং কমিটি কীভাবে চলবে বা ইম্পার প্রশাসনিক কাঠামোয় কোনো বদল আসবে কি না, তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত। তবে টলিপাড়ার এই অন্তর্কোন্দল যে স্টুডিও পাড়ার পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *