কিছুদিন আগেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনশোর বেশি ছবি করেছি কি না ভাবতে বসলে সেই দিন থেমে যাব। তাঁর মতে প্রতিটি দিন নতুন, প্রতিদিন তাঁর নতুন জন্ম অভিনেতা হিসাবে। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে সেই কথা যেন সত্যি হয়ে গেল। ২০২৬-এর পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হল বাংলার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। মামুটি, মাধবন, অলকা ইয়াগনিক এবং প্রয়াত অভিনেতা সতীশ শাহ-র পাশে জ্বলজ্বল করছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পদ্মবিভূষণ দেওয়া হল প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকেও। শিশু অভিনেতা হিসাবে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’য় তাঁর প্রথম আবির্ভাব। এই ছবি বাদ দিলে কেরিয়ারে ৪৫ বছর কাটিয়েও ইন্ডাস্ট্রির ‘বুম্বাদা’ আজও অক্লান্ত এবং সবুজ। সম্প্রতি ‘বিজয়নগরের হীরে’-র কাকাবাবুর মধ্যেও সেই জীবনীশক্তি এবং বক্স অফিসেও তার প্রতিফলন দেখা গেল। স্বাভাবিকভাবেই খুশি টলিউড এবং তাঁর সতীর্থরা।
আরও পড়ুন:
সুযোগ্য পুত্র বুম্বার এহেন সম্মানপ্রাপ্তিতে ঠিক কী অনুভূতি বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের? মুম্বইয়ে বসে তিনিও ভাসছেন আনন্দে। মুম্বই থেকে তিনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানালেন, “এ আমার গর্ব। আমাদের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে বুম্বা। আমি ওকে আমার আশীর্বাদ জানিয়েছি। কতটা ভালো লাগছে তা ব্যক্ত করতে পারব না।” প্রসেনজিতের সবচেয়ে হিট নায়িকা অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এদিন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানালেন, “আমি দারুণ খুশি। এই পুরস্কার অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। প্রসেনজিৎ এই পুরস্কারের যোগ্য। এটা আমাদের গর্বের বিষয়।”

‘ময়ূরাক্ষী’, ‘শেষ পাতা’ এবং ‘রবিবার’-এর পরিচালক অতনু ঘোষ জানান,“খুব ভালো খবর। নিষ্ঠা নিয়ে এত বছর মানুষটা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়েছে। তাঁর নিয়মানুবর্তিতা এবং চেষ্টা শিক্ষণীয়। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে সবসময় কাজ করেছে প্রসেনজিৎ। ভিন্ন ধারার ছবিকে সবসময় প্রমোট করেছে। ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিই হোক বা ‘ক্লার্ক’ অথবা ‘হাউসফুল’-এর মতো ছবি– চিরকালই নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছে প্রসেনজিৎ। তিনি বাণিজ্যিক ছবির স্টার হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে বারবার নিজেকে ভেঙেছেন। এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য।”
‘দৃষ্টিকোণ’, ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’, ‘কাবেরী অন্তর্ধান’, ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। আজকের যুগে যে বাকিদের মতো অত্মপ্রচারের পথে হাঁটেনি, সমানে কাজ করে গিয়েছে তাঁর এই সম্মান পাওয়া জরুরি। নিজের আভিজাত্য, সৌজন্যবোধ এবং ভদ্রতা বজায় রেখে ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে সবসময় পাশে থেকেছে। তাঁর এই পুরস্কারের খবর পেয়ে আমাদের পরিবারের সকলে খুব খুশি।”
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এর আগে ঋতুপর্ণ ঘোষ-এর ‘দোসর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিলেন। বহু সাক্ষাৎকারে মূল বিভাগে জাতীয় পুরস্কার না পাওয়ার অভিমান তিনি ব্যক্ত করেছিলেন। একটু দেরি হল কিন্তু জাতীয় স্তরে যে সর্বোচ্চ পুরস্কার তিনি পেলেন, তা বোধহয় তাঁকেই মানায়।
সর্বশেষ খবর
