তৃণমূল জমানায় চাকরি পাওয়ার এক বছর পূরণের আগেই চাকরি হারালেন ২১ জুলাই শহিদ পরিবারের সন্তান। চাকরির এক বছর না হওয়ায় তা কনফার্ম হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর চাকরি গিয়েছে। সেই আক্ষেপ নিয়েই বনগাঁর চাঁদপাড়ায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র উলুবেড়িয়ার অফিসে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছিলেন শহিদ রঞ্জিত দাসের ছেলে রজত দাস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা-ও। সবটা শুনে ঋতব্রতর আশ্বাস, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি নিজে আবেদন করবেন।
আরও পড়ুন:
ঋতব্রতর বক্তব্য, ”যে শহিদ পরিবারগুলোর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ড. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই পরিবারগুলোর সঙ্গে তিনি প্রবঞ্চনা করেছেন।”
তৃণমূল সরকারের আমলে তদন্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ঠিক হয়েছিল শহিদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ২৫ লক্ষ টাকা আর একজনের চাকরি দেবে সরকার। সেই অনুযায়ী গত বছর আগস্টে শহিদ রঞ্জিত দাসের ছেলে রজতের একটি অস্থায়ী পদে অ্যাটেন্ডেন্টের চাকরি হয়েছিল তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে। তৃণমূল সরকার চলে যাওয়ায় এবং চাকরির এক বছর না হওয়ায় সেই চাকরি হারাতে হয় রজতকে। ঋতব্রতর বক্তব্য, “যে শহিদ পরিবারগুলোর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ড. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই পরিবারগুলোর সঙ্গে তিনি প্রবঞ্চনা করেছেন। ২০১১-তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তো এই পরিবারগুলোকে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিৎ ছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা তো দিলেনই না, উল্টে প্রতারণা করলেন। আমি আশ্বাস দেওয়ার কেউ না। রাম-শ্যামের চাকরি হয়েছে। চাকরি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু শহিদ রঞ্জিত দাসের ছেলে জুতোর শুকতলা খুইয়ে ১৫ বছর পর একটা চাকরি পেল। আগস্টে সেটাও চলে গেল।”
তবে এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নতুন করে এই বিষয়ে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ”শহিদদের নিয়ে প্রবঞ্চনা করব না।” বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই ২১ জুলাই নিয়ে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাস্টিস চ্যাটার্জির রিপোর্ট বিধানসভায় পড়ে শোনান তিনি। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
