রাজগঞ্জ: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর ও পানিকৌরি এলাকায় এক ঘাতক পিকআপ ভ্যানের দাপটে তছনছ হয়ে গেল দুটি পরিবার। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে ওই বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই বাইক আরোহীর। মৃতদের মধ্যে একজন পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
টানা দুই দুর্ঘটনা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ একটি টাটা এসি পিকআপ ভ্যান শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারপাড়া এলাকায় প্রথমে একটি বাইককে ধাক্কা মারে। এতে গুরুতর আহত হন ১৮ বছর বয়সী বাইক চালক মলিন রায়। তাঁকে রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এরপরই এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগডোগরা অফিস মোড় এলাকায় আরও এক বাইক আরোহীকে পিষে দেয় ওই একই গাড়ি। গুরুতর আহত অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় ৩৭ বছর বয়সী উত্তম রায়ের। জানা গিয়েছে, উত্তমবাবু পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন।
জনতার রোষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ: দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। উত্তেজিত জনতা ঘাতক পিকআপ ভ্যানটিকে আটক করে রাস্তার পাশে উলটে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ থানার আইসি অমিতাভ দাস ও বেলাকোবা ফাঁড়ির ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে: অঞ্চল সভাপতি উত্তম রায়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও ব্লক তৃণমূল সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দলীয় একনিষ্ঠ কর্মীকে হারিয়ে তাঁরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।
