বর্ধমান: গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি পেলেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা শেখ আব্দুল লালন ও তার ছেলে শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জু (TMC Chief Lalon, Bail Granted)। ভয়াবহ সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিস্মিত খোদ আইনজীবীদের একাংশও। এই ঘটনায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ক্ষমতার দাপট কমতেই আউশগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি লালন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় ৭ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র লুট করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন এই বাপ-ছেলে।
আউশগ্রাম থানার ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শুক্রবার ভোররাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। ১৯ মে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়।
তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা না মানার যুক্তি দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেন। সরকারি আইনজীবী পুলিশি হেফাজতের সপক্ষে জোরালো সওয়াল করলেও, শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সিজেএম (CJM) অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ধৃতদের সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করা যাবে না।
আইনজীবীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে অবাক। তাদের বক্তব্য, সম্প্রতি একই ধরনের মামলায় সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া, অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন পূর্বেই জেলা জজ খারিজ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সিজেএম আদালতের জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

