অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। পুলিশের জালে তৃণমূলের ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী শরিফুল ইসলাম। ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে। এরপরেই অভিযুক্ত শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ডোমকলে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনটি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকিয়ে সেই টাকা তুলে নিতেন ধৃত শরিফুল। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই অস্বস্তিতে তৃণমূল। পাশে নেই দলীয় নেতৃত্বও। তৃণমূলের ডোমকল কোর কমিটির সদস্য বাসির মোল্লা বলেন, ”যা অভিযোগ সেটা মারাত্মক। এরকম হয়ে থাকলে নিশ্চয় তার শাস্তি ভোগ করতে হবে।” অন্যদিকে সিপিআইএমের ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা জানান, ”আমরা বিগত দিনে বারবারই বলার চেষ্টা করেছি ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতি দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা। এখন সব প্রকাশ্যে আসছে। আমরা চাইব অবশ্যই এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হোক।”
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুর্নীতি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি ধৃতের স্ত্রী ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাস জানান, ”কিছুদিন আগে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিডিও সাহেব ওর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন শুনছি তিনটে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। বিষয়টা আসলে কি আমিও জানি না। আইসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারবো।” জানা গিয়েছে সভাপতি স্বামী শরীফুল ইসলাম নিজে একটা সিএসপি চালান। সেখান থেকে কিছু গন্ডগোল হয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সভাপতি।
তবে অন্য সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যের নথি ভাড়া নিয়ে সেই নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিতেন ধৃত শরিফুল। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রমাণ পুলিশের হাতে আসে। এরপরেই শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। বলে রাখা প্রয়োজন, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ডোমকলে বহু ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যায়। এরপরেই একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে আসছে। এবার এহেন ঘটনায় নাম জড়ালো খোদ তৃণমূল নেত্রীর স্বামীর। ঘটনায় কংগ্রেসের ডোমকল ব্লকের সভাপতি মসিউর রহমান রানা জানান, ”ঘটনাটা ন্যক্কারজনক এবং অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই এর আইনানুগ শাস্তি হওয়া দরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
