উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর তিরুবল্লুরে (Tiruvallur) অবস্থিত একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে। গত ২১ জুন পেরিয়াপালায়মের (Periyapalayam) কাছে ‘সেন্ট পিটার অ্যান্ড পল সিফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এ এই মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কারখানার সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম গাফিলতির চিত্র প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (TNPCB) এবং জনস্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের রিপোর্ট মুখ্যসচিবের কাছে জমা দিয়েছে। রিপোর্টে প্রধানত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
- অ্যালার্ম বিকল: গ্যাস লিকের সময় কারখানার জরুরি অ্যালার্ম ব্যবস্থা কাজ করেনি। এর ফলে শ্রমিকদের বের করে নিয়ে আসার সময় নষ্ট হয় এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে।
- অস্বাস্থ্যকর আবাসন: কারখানার ভেতরেই শ্রমিকদের ডর্মিটরি ছিল, যেখানে গাদাগাদি করে রাখা হতো মূলত তরুণী শ্রমিকদের। অস্বাস্থ্যকর ও ঘিঞ্জি পরিবেশ নিয়ে আগেই অভিযোগ ছিল, যা তদন্তে প্রমাণিত।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মোট ৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে ৬৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ১৬ জন ভেন্টিলেশনে এবং ২১ জন অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। আক্রান্তরা ওড়িশা, অসম, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক।
উল্লেখ্য, মৃত ১১ জনের মধ্যে ৯ জন ওড়িশার এবং ২ জন অসমের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের দেহ ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পাঠানো হবে।
এই ঘটনার পর তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ শিল্প কারখানাগুলোর অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে কারখানার বাইরে শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিপদজনক কারখানার চারপাশে ‘স্টেরাইল বাফার জোন’ তৈরি করা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এপ্রিলেই সংস্থাটিকে কাজ চালানোর অনুমতি (Consent to Function) দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সুরক্ষাবিধিতে এই বড় ধরনের ত্রুটি সরকারি তদারকির ওপরও প্রশ্ন তুলছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ঘটনার ভয়াবহতায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃত শ্রমিকদের নিজ নিজ গ্রামে।

