উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা মন্দিরে (Tirumala Temple) সম্প্রতি রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির (Anant Ambani) চুল দান করার ঘটনা ফের চর্চায় নিয়ে এসেছে মন্দিরের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় আচার ‘চুল দান’-কে। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা, শিল্পপতি—কেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভক্তরা এই রীতি মেনে আসছেন, তা নিয়ে রয়েছে গভীর বিশ্বাস ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপট।
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এক গোয়ালা ভুলবশত ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের মাথায় কুঠারের আঘাত করেছিলেন, যার ফলে তাঁর মাথার কিছু চুল নষ্ট হয়ে যায়। তখন নীলা দেবী নামক এক ভক্ত নিজের চুল কেটে ভগবানের চরণে উৎসর্গ করেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভক্তি ও ত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাঁকে আশীর্বাদ করেন। সেই থেকেই এই প্রথার সূচনা বলে প্রচলিত।
শুধুমাত্র বিশ্বাস নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর দার্শনিক তাৎপর্য। ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চুল অহংকার ও জাগতিক আসক্তির প্রতীক। তাই দেবতার সামনে চুল উৎসর্গ (Hair Tonsuring) করার অর্থ—নিজের অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ বিনয়ের সঙ্গে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হওয়া। এটি আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। যুগের পর যুগ পেরোলেও, তিরুপতিতে ভক্তদের এই নিবেদনের জনপ্রিয়তা আজও অটুট।

