Theft in Temple | হাড়কাঁপানো শীতে প্রাচীন ধর্মরাজ মন্দিরে চুরি! গায়েব ৫ লক্ষ টাকার গয়না

Theft in Temple | হাড়কাঁপানো শীতে প্রাচীন ধর্মরাজ মন্দিরে চুরি! গায়েব ৫ লক্ষ টাকার গয়না

শিক্ষা
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: হাড়কাঁপানো শীতে যখন জবুথবু জনজীবন, সেই সুযোগকেই কাজে লাগাল চোরেরা। সোমবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের আনখোনা গ্রামে প্রাচীন ধর্মরাজ মন্দিরে হানা দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা (Theft in Temple)। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। চুরির ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আনখোনা গ্রামের মন্দিরগুলির মধ্যে এই ধর্মরাজ মন্দিরটি সবথেকে প্রাচীন। তীব্র ঠান্ডার কারণে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তাঘাট কার্যত জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবেই অপারেশন চালায় চোরেরা। চুরির সময় যাতে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য মন্দিরের সদর দরজায় বাইরে থেকে খিল তুলে দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর মন্দিরের ভিতরের গ্রিলের তালা ভেঙে গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দেবতার অঙ্গে থাকা সমস্ত সোনা ও রুপোর অলংকার লুট করে তারা।

মঙ্গলবার সকালে মন্দিরের সেবায়েত পুজো করতে এসে দেখেন, গেটের তালা ভাঙা এবং দেবতার গয়না উধাও। তাঁর চিৎকারেই গ্রামবাসীরা জড়ো হন। লণ্ডভণ্ড মন্দির এবং বিগ্রহের গয়না চুরির দৃশ্য দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। আনখোনা গ্রামে লোকশ্রুতি অনুযায়ী, বহু কাল আগে স্বয়ং বর্ধমানের মহারাজা এই ধর্মরাজ ঠাকুরের সেবার ভার গ্রামের হাজরা পরিবারের ওপর অর্পণ করেছিলেন। সেই থেকে বংশপরম্পরায় হাজরা পরিবারই এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ধর্মরাজ ঠাকুর অত্যন্ত জাগ্রত। মনস্কামনা পূরণ হওয়ায় বহু ভক্ত প্রতি বছর প্রচুর সোনা ও রুপোর গয়না ঠাকুরকে দান করেন। ভক্তদের দেওয়া সেই সব গয়নাই দুষ্কৃতীরা লুট করেছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

চুরির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, চুরি যাওয়া গয়নার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। প্রাচীন এই মন্দিরে চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, যত শীঘ্র সম্ভব দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে ঠাকুরের খোয়া যাওয়া গয়না উদ্ধার করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *