উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এবং অস্কারের দৌড়ে থাকা চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ (The Voice of Hind Rajab) ভারতে প্রদর্শনের অনুমতি পেল না! সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিটিকে সেন্সর ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর, এই ছবি মুক্তি পেলে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হতে পারে— এমন আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’ (Selection)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবিটির ভারতীয় ডিস্ট্রিবিউটর মনোজ নন্দওয়ানা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই ভারতে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, ছবিটি মুক্তি পেলে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মনোজ নন্দওয়ানা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন: “ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক এতটাই মজবুত যে একটি সিনেমার কারণে তা ভেঙে যাবে ভাবাটা বোকামি। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতে তবুও এটিকে সেন্সর করা হচ্ছে।”
কাউথার বিন হানিয়া (Kaouther Ben Hania) পরিচালিত এই ডকু-ড্রামাটি গাজা যুদ্ধের একটি বাস্তব ও মর্মান্তিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- মূল প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে একটি গাড়িতে আটকে পড়া ৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব-এর করুণ কাহিনী এটি।
- বাস্তব ঘটনা: হিন্দ রজব, তার পরিবারের ছয় সদস্য এবং তাকে উদ্ধার করতে আসা দুই প্যারামেডিক ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
- অভিনয়ে: সাজা কিলানি, মোতাজ মালহিস, আমের হেলেহেল এবং ক্লারা খুরি।
ছবিটি বিশ্ব চলচ্চিত্রে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে:
- ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল: ৮২তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি ‘গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ’ সহ আরও ছয়টি পুরস্কার জেতে।
- অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোব: ২০২৬ সালের অস্কারে এটি ‘সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। এছাড়া গোল্ডেন গ্লোবেও সেরা অ-ইংরেজি ভাষার ছবির দৌড়ে ছিল এটি।
চলচ্চিত্র প্রেমী এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত শৈল্পিক সৃষ্টিকে ভূ-রাজনীতির দোহাই দিয়ে আটকে দেওয়া বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী। ভারত সরকার বা সিবিএফসি-র পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের চলচ্চিত্র মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
