উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম পর্বের ব্যাপক বিতর্কের পর এবার ‘কেরালা স্টোরি ২’ (The Kerala Story 2)-এর মুক্তি নিয়েও তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। সেন্সর সার্টিফিকেট পেতে নাজেহাল হতে হচ্ছে ছবির নির্মাতাদের। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত অবধি গড়ালে কেরালা হাইকোর্ট (Kerala Excessive Courtroom) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেন্সর সার্টিফিকেশনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছবি (Bollywood Information) প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
কেন এই আইনি খাঁড়া?
ছবির ট্রেলারে দেখানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মহিলাদের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, একাধিক রাজ্যের কথা বলা হলেও সিনেমার নামকরণে এবং চিত্রনাট্যে কেরলকেই বিশেষভাবে ‘টার্গেট’ বা হাইলাইট করা হয়েছে। কেরালা হাইকোর্টে এই মর্মে একটি রিট পিটিশন জমা পড়েছিল। বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাস পর্যবেক্ষণে জানান, ‘কেরালা সম্প্রীতির জায়গা। কিন্তু ছবিতে বলা হয়েছে এ ধরনের অপরাধ সমগ্র কেরালা জুড়ে ঘটছে। এটি ভুল ইঙ্গিত এবং আবেগে আঘাত করে। সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা হলো এই বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করা।’
টিজার নিয়ে বিতর্ক:
মামলায় আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই ছবিটির টিজার প্রদর্শিত হচ্ছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, টিজারের অনেক দৃশ্য মূল সিনেমায় রাখা হবে না। তবে আদালত এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। টিজারের বিতর্কিত বিষয়বস্তু আদতে সিনেমায় আছে কি না, তা যাচাই করতেই ছবি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।
সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা:
আদালত জানিয়েছে, সেন্সর বোর্ডের কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে ছবির দৃশ্যগুলি যাচাই করা যাতে কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা রাজ্যের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো না হয়। নির্মাতাদের দাবি, সিনেমাটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। তবে আদালতের এই কড়াকড়ির পর ছবিটির মুক্তি এখন বিশবাঁও জলে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
